kalerkantho


চৌহালী কি হারিয়ে যাবে?

অসীম মণ্ডল, সিরাজগঞ্জ    

২৩ জুলাই, ২০১৮ ০৮:৫৩



চৌহালী কি হারিয়ে যাবে?

বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে প্রবল স্রোতে ভাঙনের কবলে পড়ে যমুনা। এতে দিশাহারা হয়ে পড়ে সিরাজগঞ্জের চেীহালী উপজেলার বাসিন্দারা। অব্যাহত ভাঙনে ইতিমধ্যে বিলীন হয়েছে অনন্ত পাঁচ গ্রাম। শুধু সঠিক পরিকল্পনা  বাস্তবায়নের অভাবেই অঞ্চলটি হারিয়ে যেতে বসেছে বলে মনে করছে এলাকাবাসী।

চলতি বছর বর্ষার তেমন তীব্রতা না থাকলেও নদীতে প্রচণ্ড স্রোত। যমুনার তীর ঘেষে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ঘূর্ণাবর্ত। ফলে শুরু হয় ভয়াবহ ভাঙন। যমুনার পূর্বপাড় উত্তরে বোয়ালকান্দি থেকে দক্ষিণে পাথরাইল। এর প্রায় ১৯ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলছে এ ভাঙন। এ কারণে চৌহালী উপজেলা এক বিধ্বস্থ জনপদের নাম এখন।

জেলার অন্য উপজেলার ন্যায় এখানেও ছিল সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালত, হাটবাজার, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দিরসহ নানা স্থাপনা। তবে প্রতিবছর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ।

এর আগে চলতি বর্ষায় যমুনার ভাঙনে হারিয়ে গেছে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চৌবাড়িয়াপূর্ব পাড়া, হাটাইল দক্ষিণপাড়া ও চরবিনানুই, খাষকাউলিয়া ইউনিয়নের চোদ্দরশি ও উত্তর খাষকাউলিয়া, খাষপুখুরিয়া ইউনিয়নের মিটুয়ানী ও শাকপাল, ওমরপুর ইউনিয়নের শৈলজানা ও ঘোরজান ইউনিয়নের চরজাজুরিয়া এলাকার প্রায় সাত শতাধিক ঘরবাড়ি, বিভিন্ন কাঁচাপাকা স্থাপনাসহ কয়েক শ একর আবাদি জমি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতার কারণেই এই অবস্থা হয়েছে জনপদটির। অবিলম্বে ভাঙন রোধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ভাঙনকবলিত মানুষ।

উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় রাজনীতিবিদরা জানান, চৌহালী উপজেলাটি সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে না হয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে থাকায় দুর্যোগপূর্ণ অবস্থার সময় তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায় না বলে জানিয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারা।

চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, 'সিরাজগঞ্জ বাঁধরক্ষা আর নদীভাঙন রোধে  প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা কখন ব্যবস্থা নেবে তা জানা যায়নি।'

উপজেলারটির অস্তিত্বসহ অবশিষ্ট জনপদ রক্ষায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এমনটিই দাবি এলাকাবাসীর। 



মন্তব্য