kalerkantho


২০ লাখ মানুষের চিকিৎসায় ৫৭ ডাক্তার

ভোলা প্রতিনিধি   

২৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০৩



২০ লাখ মানুষের চিকিৎসায় ৫৭ ডাক্তার

কালের কণ্ঠ

তিন হাজার চারশত কিলোমিটার মেঘনার জলরাশি বেষ্টিত দ্বীপ জেলা ভোলার ২০ লাখ মানুষের চিকিৎসার জন্য ৫৭ জন ডাক্তার দিয়ে চলছে স্বাস্থ্য সেবা। দায় সারা এ স্বাস্থ্য সেবায় চরম ভোগান্তি পেতে হচ্ছে দ্বীপ জেলা ভোলার লাখ লাখ মানুষের। ভোলা জেলায় ২০৯টি চিকিৎসকের পদ খালি থাকলেও সারা জেলাতে মাত্র ৫৭ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। এখনো ১৫২টি পদ খালি আছে। এখানে কেউ আবার পদায়ন হলেও কর্মস্থলে যোগ না দেয়াই হলো এখন বড় সমস্যা।

১০০ শয্যা ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের পদ ২২টি থাকলেও চিকিৎসক আছে ১১ জন। সত্যিকার অর্থে ভোলা সদর হাসপাতাল পঞ্চাশ শয্যাবিশিষ্ট হলেও এখানে এক শ' শয্যার বা এর অনেক বেশি সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। অন্যান্য জনবলও না থাকায় কোনো রকমভাবে চলছে এ স্বাস্থ্যসেবা। এভাবেই চলছে ভোলার সাত উপজেলার মধ্যে অন্যান্য ছয় উপজেলায় স্বাস্থ্য।

ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ও তাদের স্বজনরা জানান সকালে হাসপাতালে আসলেও সারা দিনেও টিকেট কেটে একজন সরকারি ডাক্তার পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। কারণ তারা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী দেখতেই সময় চলে যায়। আবার তারা চেম্বারে যাওয়ার কথা বলে চলে যায়, হাসপাতালে দু'একজনের বেশি রোগী দেখেন না। সেই সঙ্গে হাসপাতালের ভেতরে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ, নিম্নমানের খাবার, ময়লা রোগীদের দেয়া বিছানাপত্র রয়েছে।

এ বিষয়ে ভোলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. তৈয়বুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ভোলা সদর হাসপাতাল ৫০ শয্যা হলেও আমরা একশত শয্যার বেশি সেবা দিয়ে থাকি। কিন্তু এখানে ৫০ শয্যার যে জনবল থাকার কথা ছিল সে জনবলও নাই। অনেক ডাক্তারই এখন সারা দিন হাসপাতালে সময় দিতে গিয়ে নিজেরাই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

অন্যদিকে ডা. আবদুল কাদের বলেন, হাসপাতালে ২০টি শিশু ভর্তি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেখানে স্কেন ওয়ার্ডে প্রতিদিন থাকে ২০ জনের মতো, আবার শিশু ওয়ার্ডে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জনের মতো ভর্তি হয়ে থাকে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গড়ে ২০-২৫ জন শিশু থাকে। এভাবেই চলছে প্রতিনিয়ত। সেই সঙ্গে সঙ্গে যেমন ডাক্তার ও জনবল প্রয়োজন নেই বলে জানান তিনি। মাত্র চার জন কনসালটেন্ট ও ১১ জন ডাক্তার দিয়ে একটি হাসপাতাল চলতে পারে না।

অপরদিকে জেলা জুড়ে ডাক্তার শূন্যতাকে পুঁজি করে ভোলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে প্রায় অর্ধশত ডায়াগনোস্টিক সেন্টার। আর সেখানে প্রায়ই আসছে ভূয়া ডিগ্রীধারী কিছু নামে মাত্র ডাক্তার। প্রায়ই র‌্যাব ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যেদের হাতে গ্রেপ্তার হলেও তাদের তৎপরতা বেড়েই চলেছে। অনেক সময় নামে মাত্র অভিযান পরিচালনা করে ভোলা জেলা প্রশাষক। কারণ এর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা, যারা নিজেদেরও রয়েছে কিছু ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের শেয়ার। 

এ বিষয়ে ভোলা সিভিল সার্জন ডা. রথীন্দ্র নাথ মজুমদার কলের কণ্ঠকে বলেন, ভোলা জেলায় ২০৯টি চিকিৎসকের পদ খালি থাকলেও সারা জেলাতে মাত্র ৫৭ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। এখনো ১৫২টি পদ খালি আছে। এখানে কেউ আবার পদায়ন হলেও কর্মস্থলে যোগ দেয় না। এক শ' শয্যা ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের পদ ২২টি থাকলেও চিকিৎসক আছে ১১ জন। আসলে এ হাসপাতাল পঞ্চাশ শয্যা বিশিষ্ট হলেও এখানে এক শ' শয্যার বা এর অনেক বেশি সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। 

এ জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ ও সাধারণ জনগণ মনে করছে ভোলায় ডাক্তার পদায়ন হলে তাদেরকে তদারকি করে ভোলায় কর্মস্থলে যোগদানে বাধ্য করতে হবে। আবার যারা ভোলাতে কর্মরত আছেন তারা যেন অফিসের সময়ে বাহিরে চেম্বার করলে তাকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে।



মন্তব্য