kalerkantho


সহপাঠীর প্রতিহিংসার শিকার আলিম পরীক্ষার্থী তামান্না, ফলাফল স্থগিত

নড়াইল প্রতিনিধি   

২২ জুলাই, ২০১৮ ২১:৫২



সহপাঠীর প্রতিহিংসার শিকার আলিম পরীক্ষার্থী তামান্না, ফলাফল স্থগিত

২০১৬ সালের মাদ্রাসা বোর্ডের দাখিল(এসএসসি) পরীক্ষায় মাদ্রাসা বোর্ডের জেলার ১ম এবং খুলনা বিভাগে ৩য় স্থান অধিকারী রাফিসা তাসনিম তামান্না এবারের আলিম(এইচএসসি) পরীক্ষায় ফলাফল না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে। সে নড়াইলের শাহাবাদ মাজিদিয়া কামিল মাদ্রাসার ছাত্র। এ বছর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডর অধিনে অনুষ্ঠিত আলিম পরীক্ষায় বিজ্ঞান শাখায় অংশগ্রহণ করে মেধাবী ছাত্রী তামান্না (রোল- ২০৫১৪০ রেজিঃ নং-১২১৮৭৯২৩০২)। কিন্তু তার ফলাফল স্থগিত করে রেখেছে মাদ্রাসা বোর্ড। অভিযোগ উঠেছে, উচ্চতরগণিত পরীক্ষায় তাঁর উত্তরপত্র থেকে ৫টি অংক কেটে ফেলেছে একই মাদ্রাসার ছাত্র ইখলাসুর রহমান। এ ঘটনায় গত ১৫ মে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবরে আবেদন করেছে ভুক্তভোগী ছাত্রী। 

তামান্নার অভিযোগ, শাহাবাদ মাজিদিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে গত ৭ মে উচ্চতর গণিত প্রথমপত্র পরীক্ষা চলাকালে নির্ধারিত সময়ের ১৫-২০ মিনিট পূর্বে উত্তরপত্র সম্পন্ন করে হল পরিদর্শকের নিকট (উত্তরপত্রটি) জমা দেন। এ সময় হল পরিদর্শক মোহাম্মদ ইমরানের কাছ থেকে কৌশলে তাঁর  উত্তরপত্র নেয় একই বিভাগের পরীক্ষার্থী ইখলাছুর রহমান (রোল-২০৫১৪৬,রেজিঃ নং-১৩১৮৮২০৬৯৫)। প্রতিহিংসার জের ধরে তাঁর উত্তরপত্র থেকে ৫টি অংক কেটে দিয়ে খাতা রেখে দৌড়ে পরীক্ষা কেন্দ্র ত্যাগ করে সে। এ ঘটনায় তাঁর সন্দেহ হলে সে হল সচিবকে বিষয়টি অবহিত করেন। হল সচিব  তাঁর  খাতাটি পরীক্ষা করে দেখেন তার ৫টি অংক কেটে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি বুঝতে পেরে কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উত্তরপত্রটি সংশোধনের সুযোগ দেয় তাঁকে । 

লিখিত অভিযোগে তামান্না বলেন, একই কায়দায় পদার্থ বিজ্ঞানের ২ বিষয় এবং রসায়নেরর দুই বিষয়ে তার উত্তরপত্রে কাটাকাটি করে তার ভাল ফলাফল করা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাই বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) আলিম পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সময় তার ফলাফল স্থগিত হয়ে গেছে। ওই জঘন্য ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্টদের শাস্তি দাবি করেন তামান্না। 

কেন্দ্র সচিবের দ্বায়িত্বে থাকা টোনা ইসলামীয়া আলীম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ইকবাল সাইদী তামান্নার উত্তরপত্রে কাটাকাটির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনাটি তো তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা হয়েছে। এরপর আর কি ঘটেছে সে বিষয়ে আমার জানা নাই। তাছাড়া জেলা প্রশাসকের তদন্তে আমি আমার কথা বলেছি।

এদিকে তামান্নার পরীক্ষার উত্তরপত্র নষ্ট করার বিষয়ে শিক্ষকদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। 
জানা গেছে, শাহাবাদ মাজিদিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। তামান্নার বাবা মাওলানা রফিউদ্দিন একটি পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় অপর পক্ষের শিক্ষক মাওলানা  জিল্লুর রহমানসহ কিছু শিক্ষকের যোগসাজসে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন তামান্নার  বাবা মাওলানা রফিউদ্দিন। 

তিনি আরো অভিযোগ করেন, ঘটনার জন্য হল সচিব কেন্দ্র পরিদর্শককে শো-কজ করলেও সেই কাগজ ছিড়ে ফেলেছে মাওলানা জিল্লুর। মেয়ের ফলাফল নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য ইতিমধ্যে কয়েকজন তাকে হুমকি দিয়েছে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে মাওলানা জিল্লুর রহমান বলেন, যেদিন পরীক্ষায় খাতা কাটাকাটি হয়েছে সেদিন আমি মাদ্রাসায়  ছিলাম না। আর এই ঘটনায় জড়িত থাকার প্রশ্নই ওঠে না। আমি এ ঘটনায় জড়িত নই।

শাহাবাদ মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রকিব বলেন, আমি ঘটনার সময় ঢাকাতে ছিলাম। আমাদের মাদ্রাসা থেকে বোর্ডে লোক পাঠানো হয়েছে তামান্নার খাতা দেখার জন্য। তারা ফিরে আসলে বোঝা যাবে আসল ঘটনা কি ঘটেছিলো।

এ ব্যাপারে গত ২০মে নড়াইল জেলা প্রশাসকের বরাবরেও অভিযোগ করেন তামান্না। পরে জেলা প্রশাসক মো. এমদাদুল হক চৌধুরী সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেন।

তামান্নার ফলাফল স্থগিত এবং উত্তরপত্র কাটাকাটির বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা নড়াইল সদরের সহকারী কমিশনার(ভূমি)মো. আজিম উদ্দিন বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। মেধাবী ওই ছাত্রীটির খাতা দেখার জন্য বলা হয়েছে। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। মেধাবী ছাত্রীটি যেন তার প্রকৃত ফলাফল থেকে বঞ্চিত না হয় সেই সুপারিশ করা হয়েছে।



মন্তব্য