kalerkantho


রাজশাহী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মন্টু গ্রেপ্তার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ জুলাই, ২০১৮ ১১:৩৭



রাজশাহী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মন্টু গ্রেপ্তার

রাজশাহী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতরাত পৌনে ২টার দিকে নগরীর রামচন্দ্রপুর এলাকার বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, গভীর রাতে নগরীর রামচন্দ্রপুর এলাকার বাসা থেকে মন্টুকে ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ। নির্বাচনে দলীয় মেয়রপ্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন মন্টু।

মন্টুর পরিবার সূত্র জানায়, পুলিশ মন্টুকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে। তবে তাকে কোথায় রাখা হয়েছে সে ব্যাপারে তারা জানেন না। এ ছাড়া পুলিশ মন্টুর লাইসেন্সকৃত অস্ত্রটিও নিয়ে গেছে বলে সূত্র জানায়।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, গত ১৭ জুলাই রাজশাহীর সাগরপাড়া মোড়ে বিএনপির পথসভায় হাতবোমা নিক্ষেপের ঘটনায় মন্টু জড়িত রয়েছেন এ ব্যাপারে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, 'এ ঘটনায় এর আগে হিমেল নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তার রিমান্ড চাওয়া হয়েছে যদিও এখন শুনানি হয়নি। মন্টুকেও আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। আর কে কে জড়িত তা জানতে আরো জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন।' 

এদিকে, রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রচারে বোমা হামলার ঘটনায় টেলিফোন আলাপের একটি অডিও রেকর্ড প্রকাশ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। পুলিশের দাবি, হামলার পর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু ও রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টুর মধ্যে এই কথোপকথন হয়েছে। এতে যাকে মন্টু নামে দাবি করা হচ্ছে, তিনি টিপুকে বলছেন, ভাইয়ার (তারেক রহমান) কাছে ক্রেডিট নেওয়ার জন্য দুইজনকে দিয়ে এই বোমা হামলা চালানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে টিপু জানান, এই ধরনের কোনো কথা বলেছেন কিনা- সেটি তার মনে নেই। আর মন্টুর সঙ্গে তার কথা হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, 'কত মানুষের সাথেই তো কথা হচ্ছে।'

গত ১৭ জুলাই রাজশাহীর সাগরপাড়া মোড়ে বিএনপির পথসভায় হাতবোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সভা চলাকালে চারটি মোটরসাইকেলে আটজন যুবক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরপর তিনটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটান। এতে বাংলাভিশনের সাংবাদিক পরিতোষ চৌধুরী আদিত্যসহ দুইজন আহত হন। ওই পথসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু উপস্থিত ছিলেন। এই হামলার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিয়েছে বিএনপি।

যদিও ঘটনার দিনই আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, এটি বিএনপিই ঘটিয়েছে। লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্দেশে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

গত ২৬ জুন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের আগের দিনও এক অডিও রেকর্ড প্রকাশ হয় একটি ইউটিউব চ্যানেলের পাশাপাশি ফেসবুকে। সেখানে ভোটের দিন নৌকার ব্যাচ পরে নাশকতা করার বিষয়ে কথা হয়।

ওই রেকর্ড প্রকাশের পর পুলিশ বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মিজানুর রহমানসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী মিজানুর রহমান আশুলিয়া থানা যুবদলের এক নেতাকে কয়েকটি সাহসী ছেলে যোগাড় করে তাদেরকে প্রশিক্ষণ ও যন্ত্রপাতি দেওয়ার কথা বলেন। তারা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নির্দেশনা মতো কাজ করবে-এমন কথা বলা হয়।

আইসিটি আইনে মামলায় মিজানুর এখনো কারাগারে। যদিও বিএনপি অভিযোগ করেছে, ওই কথোপকথন  সাজানো। 



মন্তব্য