kalerkantho


চার বছরের শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে

মাদারীপুর প্রতিনিধি    

২২ জুলাই, ২০১৮ ০৩:০৭



চার বছরের শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে

মাদারীপুরে চার বছরের এক শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে সদর হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। সেই সঙ্গে শিশুটি বার বার আতকে উঠছে। ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুর পৌর শহরের একটি এলাকায়। ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি পলাতক আছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর পৌর শহরের তরমুগরিয়া বালু ঘাট এলাকার এনাম মাতবর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়াটিয়া মিতু বেগমের ঘরে গৃহপরিচারিতার কাজ করতো এক নারী। ওই নারীর সঙ্গে তার চার বছর বয়সী শিশুটিও থাকতো। একই বাসায় কাজ করতো বারেক মাতবর নামে আরো এক ব্যক্তি। 

শুক্রবার দুপুরে মিতু পারিবারিক কাজে তার স্বজনের সঙ্গে বাহিরে যায়। তখন ঘরের ভেতরে ওই গৃহপরিচালিকা ও তার শিশু সন্তান অবস্থান করছিল। হঠাৎ বারেক ঘরে প্রবেশ করে ওই গৃহপরিচালিকে অন্যত্র পাঠিয়ে দেয়। এই সুযোগে বারেক শিশুটিকে বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে বাসার ছাদে নিয়ে যায়। এরপরে শিশুকে শারীরিকভাবে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করে। শিশুটি চিৎকার করলে বাসার ভেতরে থাকা অন্যরা এগিয়ে আসে। তবে এই সুযোগে বারেক পালিয়ে যায়। 
পরে শিশুটিকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।

অভিযুক্ত বারেক মাতবর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খাতিয়াল গ্রামের বাসিন্দা। তবে সে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে মিতু বেগমের বাড়িতে গৃহপরিচালকের কাজ করছে। সে বিয়ে করেনি বলে জানা গেছে।

শিশুটির মা অভিযোগ করে বলেন, আমি মিতু আপার বাসায় অনেকদিন ধরে কাজ করি। ওই বাসায় বারেক আমাকে প্রায়ই কুপ্রস্তাব দিত। কিন্তু আমি তার প্রস্তাবে রাজি হইনি। তখন বারেক আমাকে হুমকিও দিত। আমি তার কথা শুনিনি তাই আমার একমাত্র মেয়েটিকে মেরে ফেলতেই এই জঘন্য কাজটি করতে চেয়েছিল। এ ঘটনায় আমি বারেকের বিচার চাই।

এই ঘটনায় মিতু বেগম জানান, আমার বাসায় দুইজন কাজের লোক কাজ করতো। বারেক যে অপরাধ করেছে, তার অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি বারেককে পুলিশের মাধ্যমে আটক করতে। এই ঘটনার পর থেকে বারেক পলাতক আছে। ওর দেশের বাড়িতেও খোঁজ নিয়ে পাওয়া যায়নি। পেলেই ধরে পুলিশের সোর্পদ করব।

এ ব্যাপারে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, আমি লোকমুখে শুনেছি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ভুক্তভোগী শিশুর মা এ বিষয় কিছুই জানায়নি। যদি সে আমাদের কাছে অভিযোগ করে, তাহলে আমরা আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।



মন্তব্য