kalerkantho


বোরখা পড়ে মেসে ঢুকে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ, দুইজনের যাবজ্জীবন

রংপুর অফিস   

২০ জুলাই, ২০১৮ ০২:০৬



বোরখা পড়ে মেসে ঢুকে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ, দুইজনের যাবজ্জীবন

রংপুরে বোরখা পড়ে ছাত্রীনিবাসে ঢুকে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ ও সহায়তার অভিযোগে তাজকীর হোসেন (৩২) এবং দুলালী আকতার (২৮) নামে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া আসামিদের ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. যাবিদ হোসেন আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় দেন। অভিযুক্ত তাজকীর রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মাদারপুর খিয়ারছড়া এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে এবং দুলালী একই এলাকার জয়নাল আবেদীনের মেয়ে।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, রংপুর নগরের লালবাগ খামারপাড়া এলাকায় শাকিব টাওয়ার নামে একটি বেসরকারি ছাত্রীনিবাস থেকে রংপুর সরকারি কলেজে বাংলা তৃতীয়বর্ষে পড়ালেখা করতেন দুলালী আকতার। কারমাইকেল কলেজে অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র তাজকীর হোসেনকে পছন্দ করতেন দুলালী। কিন্তু তাজকীর হোসেন দুলালীর বান্ধবী কারমাইকেল কলেজের বাংলা তৃতীয় বর্ষের নির্যাতিত ওই ছাত্রীর কাছে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে তাজকীর দুলালীর ওই বান্ধবীকে ধর্ষণে সহায়তার শর্তে দুলালীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে রাজী হয়।

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজের ভুয়া জন্মদিন পালনের কথা বলে ২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বর দুপুরে দুলালী তার বান্ধবী ওই ছাত্রীকে তার কক্ষে ডেকে আনেন। শীতকালীন ছুটির কারণে ওই সময় ছাত্রীনিবাসে দুলালী ছাড়া আর কেউ ছিল না। কিছুক্ষণ পর সেখানে বোরখা পড়ে ছাত্রীর ছদ্মবেশে আসেন কারমাইকেল কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের মাস্টার্স শ্রেণির ছাত্র তাজকীর হোসেন। দুইজনকে কক্ষে রেখে দুলালী বাইরে বেরিয়ে দরজায় তালা লাগিয়ে দিয়ে পাহারা দেন। এ সুযোগে তাজকীর ওড়না দিয়ে ছাত্রীটি মুখ বেঁধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন এবং গোপনে ওই দৃশ্য ফোনে ভিডিও করেন। ঘটনাটি কাউকে জানালে ভিডিওচিত্র বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখান তাজকীর। লোকলজ্জার ভয়ে ধর্ষিতা ওই ছাত্রী প্রথমে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। পরের দিন তাজকীর ফের ধর্ষণের প্রস্তাব দিলে নির্যাতিতা রংপুর  কোতয়ালি থানায় তাজকীর ও দুলালীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালি থানার এসআই নজরুল ইসলাম তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ৭ মার্চ তাজকীর ও দুলালী আকতারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিলে এ মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ ৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকার পর গতকাল বৃহস্পতিবার এর রায় ঘোষণা করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রফিক হাছনাইন এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুল হক প্রামাণিক।



মন্তব্য