kalerkantho


সৎ মায়ের বিরুদ্ধে শিশু হত্যার অভিযোগ

কুমিল্লা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি    

১৯ জুলাই, ২০১৮ ১৭:৪৫



সৎ মায়ের বিরুদ্ধে শিশু হত্যার অভিযোগ

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে নির্যাতন চালিয়ে মিলি আক্তার (৭) নামের এক শিশুকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে তার সৎ মায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটির সৎ মা কামরুন নাহারকে গতকাল বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার কামরুন নাহার উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের আইনজিয়া গ্রামের আমিনুল হকের মেয়ে।  

শিশু মিলি ফেনীর সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের নেওয়াজপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসীর মুসা মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় শিশুটির চাচা হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। 

মিলির চাচা ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মিলির মায়ের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর প্রায় দুই বছর আগে কামরুন নাহারকে বিয়ে করেন কুয়েত প্রবাসীর মুসা মিয়া। বিয়ের পর থেকে বাবার বাড়িতেই বসবাস করছিলেন কামরুন নাহার। মায়ের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মিলিকে ফেনীর খাদিজাতুল ক্বোবরা মাদ্রাসায় ভর্তি করেন তার বাবা। সেখানে আবাসিকে থেকে লেখাপড়া করতো মিলি।

তিন মাস আগে মিলির বাবা মুসা কুয়েত থেকে ছুটিতে বাড়িতে আসেন। এরপর সৎ মা কামরুন নাহারের পরামর্শে মিলিকে ওই মাদ্রাসা থেকে লাকসামের একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করেন তার বাবা। লাকসামে ভর্তি হওয়ার পর থেকে সৎ মায়ের বাড়িতেই থাকতো মেয়েটি। সেখানে তার ওপর প্রায়ই নির্যাতন চালাতেন কামরুন নাহার।

হারুনুর রশিদের অভিযোগ করে বলেন, কামরুন নাহার তার বাবার বাড়িতে প্রায়ই মিলির ওপর নির্যাতন চালাতেন। গত মঙ্গলবার রাতেও তার অমানবিক নির্যাতনে মিলি মারা যায়। বুধবার ভোররাতে নাঙ্গলকোট থেকে মেম্বার পরিচয়ে এক ব্যক্তি মিলির দাদা আবদুল মুনাফের মোবাইলে কল দিয়ে বলেন, 'আপনার নাতনি মিলি হাসপাতালে মারা গেছে, তার লাশ নিয়ে যান।' এরপর বুধবার সকালে আমাদের স্বজনরা কামরুন নাহারের বাবার বাড়িতে আসলে তড়িঘড়ি করে শিশুটির মরদেহ আমাদের কাছে তুলে দিয়ে চলে যেতে বলা হয়। পরে মরদেহ ফেনী নিয়ে আসি আমরা।

হারুনুর রশিদ আরো বলেন, ফেনী নিয়ে আসার পর দাফনের জন্য মিলিকে গোসল করাতে গেলে তার শরীর ও গলার বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান আমাদের বাড়ির লোকজন। এতে সন্দেহ হলে আমরা মিলির লাশ ফেনী সদর থানায় নিয়ে যাই। পরে ফেনী সদর থানা পুলিশের পরামর্শে মিলির মরদেহ নাঙ্গলকোট থানায় নেওয়া হয়।

নাঙ্গলকোট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম পিপিএম কালের কণ্ঠকে বলেন, 'শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। এ ঘটনায় শিশুটির চাচা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামি কামরুন নাহারকে গ্রেপ্তারের পর আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।'  



মন্তব্য