kalerkantho


কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষিকাদের যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক বরখাস্ত

ত্রিশাল(ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৮ জুলাই, ২০১৮ ২১:৪৩



শিক্ষিকাদের যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক বরখাস্ত

ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে ভিসি বরাবর যৌন হয়রানি ও উত্যক্ত করার অভিযোগ করেছেন একই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ইসমত আরা ভুইয়া ইলাসহ আরো দুই শিক্ষিকা। তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষক রুহুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি এ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে প্রক্টর জাহিদুল কবীরকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এএইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান। 

জানা গেছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও পরিবেশ বিদ্যাবিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুহুল আমিন গত চার বছর ধরে নানাভাবে যৌন হয়রানি ও উত্যক্ত করে আসছিল বলে অভিযোগ করেন একই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ইসমত আরা ভুইয়া ইলা। 

অভিযোগে আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত রুহুল আমিন গতকাল মঙ্গলবার একাডেমিক কমিটির সভা শেষ হওয়ার পর বিভাগীয় প্রধানকে চোখ টিপ দিলে তিনি তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেন। এর আগেও তাকে বিভিন্ন সময় এসএমএস, মেসেঞ্জারে বাজে ছবিসহ নানা ভাবে হয়রানি করেন বলে জানান তিনি। পরবর্তীতে একই বিভাগের শিক্ষিকা নীলা সাহা ও নুশরাত সারমিন বিভাগীয় প্রধানকে জানান, তাদেরকে উত্যক্ত করে আসছিল। এ ব্যাপারে তারা সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর মোহিত উল আলমের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেও কোনও বিচার পাননি। লোক লজ্জার ভয়ে এতদিন কাউকে বলেননি বলে জানান ওই দুই শিক্ষিকা। 

এরপরে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নাট্যকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধানসহ একই বিভাগের শিক্ষক শিক্ষিকারা ভিসি বরাবর শিক্ষক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। এরই প্রেক্ষিতে আজ বুধবার ভিসি স্বাক্ষরিত এক নোটিশে অভিযুক্ত শিক্ষক রুহুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একই সাথে এ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে প্রক্টর জাহিদুল কবীরকে অব্যহতি প্রদান করা হয়। 

জানা গেছে, তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আজিজুল হককে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও কৃষি বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. একে এম জাকির হোসেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবা কানিছ কেয়া। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

এ বিষয়ে নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক নীলা সাহা জানান, অভিযুক্ত রুহুল আমিন আমাকে ২০১৪ সাল থেকে উত্যক্ত করে আসছিল। তিনি বিভিন্ন সময় আমার চুল ধরে টান দেওয়া, বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলার কারণে আমি কখনো একা একা বিভাগে বসতাম না। 

অপর শিক্ষিকা নুসরাত শারমিন জানান, তিনি যোগদান করার পর থেকে রুহুল আমিন তাকে বিভিন্ন সময় অশ্লীল কথাবার্তা ও বাজে ইঙ্গিত দিয়ে আসতেছিল। মান-সম্মানের ভয়ে এত দিন মুখ খোলেননি বলে জানান তিনি।
 
নাট্যকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ইসমত আরা ভুইয়া ইলা বলেন, শিক্ষক রুহুল আমিন বিভিন্ন সময় আমাকে সামনাসামনি ও এসএমএস মেসেন্জারে বাজে ও কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলত। আমাকে নাকি সে ভালবেসে ফেলেছে। তাই তার কিছু করার নেই বলে আমাকে নানাভাবে বিরক্ত করত। কোনও উপায় না দেখে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আমরা বিচার চেয়েছি। 

এদিকে এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত রুহুল আমিন বলেন, একাডেমিক সভায় ভাল রেজাল্টধারী শিক্ষার্থীদের  ব্যক্তি ক্ষোভে মাষ্টার্সে ফেল করিয়ে তাদের শিক্ষাজীবন ধবংস করতে চেয়েছিল বিভাগীয় প্রধান সহ কতিপয় শিক্ষক-শিক্ষিকা। আমি এর প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে এ রকম জগন্য মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জাহিদুল কবীর জানান, আমাকে কি কারণে অব্যহতি দিয়েছে আমি জানি না। তবে আমি ঘটনা শুনার পরপরই শিক্ষিকার বাসায় গিয়ে খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করেছি। তবে তাকে বাসায় পায়নি। পরে আমি ফোনে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে বলেছি। 

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এএইচএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নারী শিক্ষকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছি এবং এ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার ব্যাপারে প্রক্টর জাহিদুল কবীরের বিরুদ্ধে কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করায় তাকেও অব্যহতি দিয়েছি। তদন্ত্ম কমিটি রিপোর্ট প্রকাশ করার পরে আমরা সিন্ডিকেটে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। 



মন্তব্য