kalerkantho


ফরিদপুরের দুই উপজেলায় নদী ভাঙন অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

১৭ জুলাই, ২০১৮ ০৪:১৩



ফরিদপুরের দুই উপজেলায় নদী ভাঙন অব্যাহত

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ফরিদপুরের চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলায় পদ্মা নদী ও আড়িয়াল খাঁ নদে ভাঙন শুরু হয়েছে। এর মধ্যে চরভদ্রাসন উপজেলা সদরের এমপিডাঙ্গি এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙনে গত এক সপ্তাহে ঘর-বাড়ি ও কয়েক একর ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। 

চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজাদ খান জানান, এমপি ডাঙ্গি এলাকায় প্রায় সাড়ে চারশ’ মিটার স্থান জুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত শনিবার রাতে ১২টি বসত ঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ পর্যন্ত পাঁচ একর ফসলি জমিসহ শতাধিক গাছপালা নদীগর্ভে চলে গেছে। এতে ১০টি টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড গত রবিবার থেকে সেখানে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করা হচ্ছে।

চরভদ্রাসন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবু এহসান জানান, ক্ষতিগ্রস্থদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করার পর সহায়তা দেওয়া হবে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এ কে এম জহিরুল হক জানান, ভাঙন স্থানে বালু ভর্তি জিওব্যাগ ফেলে(ডাম্পিং) করা হচ্ছে। ভাঙন ঠেকাতে প্রায় ১৮ হাজার বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হবে। 

এদিকে গত পাঁচ দিনে সদরপুরের চরনাসিরপুর ইউনিয়নে পদ্মা নদী আর ঢেউখালী ও চরমানাই ইউনিয়নে আড়িয়াল খাঁ নদে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের ফলে ফসলি জমিসহ ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদ-নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। গত শনিবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জোবায়ের রহমান রাশেদ ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

ঢেউখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক বেপারী ও চরনাসিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আক্কাস আলী জানান, দিন দিন ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করেছিল। এ বছর এখনো কাজ শুরু করে নি। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সুলতান মাহমুদ জানান, চরভদ্রাসনে জরুরি ভিত্তিতে আপৎকালীন কাজ চলছে। আর সদরপুরে ভাঙন ঠেকাতে ২/১ দিনের মধ্যে ডাম্পিংএর কাজ শুরু হবে।

তিনি বলেন, ওই দুই উপজেলার নদী ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ শুরু করা হবে।



মন্তব্য