kalerkantho


ফরিদপুরে নারীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ায় যুবককে জুতাপেটা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

১৬ জুলাই, ২০১৮ ২৩:৩৯



ফরিদপুরে নারীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ায় যুবককে জুতাপেটা

এক নারীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে জুতা পেটা ও  গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন আলফাডাঙ্গা উপজেলার মিয়া মো. মোরাদ হোসেন (৩০) নামে এক ব্যক্তি।

আজ সোমবার বিকেলে আলফাডাঙ্গা গার্লস হাইস্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মোরাদ হোসেন নিজেকে বেসরকারি একটি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সমিতির কর্মী দাবি করেন। তবে স্থানীয়রা জানান, মোরাদের নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই। তিনি বিভিন্ন সময় সমিতির কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছেন।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আজ বিকেল পৌণে পাঁচটার দিকে সাত থেকে আটজন নারীর সঙ্গে মিয়া মো. মোরাদ হোসেনের কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। এক পর্যায়ে মোরাদ ওই নারীদের একজনকে মারতে তেড়ে যান। পরে অন্যরা মোরাদকে ধরে ফেলে এবং বেধড়ক জুতো পেটা করে।

এ ব্যাপারে উপজেলার বুড়াইচ গ্রামের গৃহবধূ মনিরা বেগম জানান, একই গ্রামের বাসিন্দা মিয়া মো. মোরাদ হোসেন আমাকে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব দিচ্ছিল। সে তার বাড়িতে কাজের কথা বলে টাকা লোভ দেখিয়ে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেছে। প্রস্তাবে রাজি না হলে তার সন্তানদের গুম করার হুমকিও দিয়েছিল মোরাদ হোসেন। সে প্রতিবাদ করলে মোরাদ তাকে নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দিতো। গত শনিবার রাত আটটার দিকে মোরাদ তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।

মনিরা বেগমের মা সালেহা বেগম বলেন, মোরাদ আমার মেয়েকে সে প্রায়ই খারাপ কাজের প্রস্তাব দিত। গত শনিবার সে আমার মেয়েকে একা পেয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে পালিয়ে যায়। আজ তাকে পেয়ে আমি জানতে চেয়েছি কেন সে আমার মেয়েকে কুপ্রস্তাব দিয়ে হয়রানি করছে? কিন্তু মোরাদ হোসেন আমার কোনো কথা শোনে নি। উল্টো আমার ও আমার মেয়েকে মেরেছে। পরে স্থানীয় মহিলারা তাকে জুতো পেটা করেছে।

বুড়াইচ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব পান্নু বলেন, মিয়া মো. মোরাদ হোসেন একজন প্রতারক। তার বিরুদ্ধে এর আগেও নারী ও আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ আছে। মাল্টিপারপাস সমিতির নামে মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে। গরীব অসহায় এসব মানুষের টাকা সে ফেরত দেয়নি। উল্টো তাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে।

বুড়াইচ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেন, মোরাদ হোসেনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির একাধিক মামলা হয়েছে। তার কোনো দৃশ্যমান পেশা নেই। সে চাকরি দেওয়া, বিদেশ পাঠানোসহ নানা ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে বিপুল টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রায়ই এসব অভিযোগকারীরা তার বাড়ি ঘেরাও করে।

আলফাডাঙ্গা থানার ওসি নাজমুল করিম বলেন, মোরাদ হোসেনকে আলফাডাঙ্গা গার্লস স্কুলের সামনে মহিলারা পিটিয়েছে বলে শুনেছি। তবে কী কারণে মেরেছে এটা জানি না।

এ ব্যাপারে আলফাডাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হামিদুল হক বাপ্পী বলেন, আমাকে বিষয়টি কেউ জানায়নি। খোঁজ নিয়ে দেখব।



মন্তব্য