kalerkantho


সরকারি কর্মকর্তাদের মারধর, অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

বরগুনার তালতলী উপজেলা চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে প্রজ্ঞাপন

বরগুনা প্রতিনিধি   

১৬ জুলাই, ২০১৮ ১৮:১৫



বরগুনার তালতলী উপজেলা চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে প্রজ্ঞাপন

বরগুনার তালতলীতে ইউএনও, ওসি, শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ একাধিক সরকারি কর্মকর্তাকে মারধরের পাশাপাশি জমি জবরদখল ও নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তালতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুজ্জামান মিন্টুকে তার পদ থেকে অপসারণের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। গতকাল রবিবার বিকেলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন বরগুনা জেলা প্রশাসকের দপ্তরে এসে পৌঁছায় বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। 

আরো জানা গেছে, গত ৮ জুলাই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (উপজেলা-০১ শাখা) থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি হয়।

প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮(উপজেলা পরিষদ সংশোধন) আইন, ২০১১ দ্বারা সংশোধিত এর ধারা ১৩ (১) (গ) অনুযায়ী অসদাচরণ, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় সরকার জনস্বার্থে মোঃ মনিরুজ্জামান মিন্টুকে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুজ্জামান মিন্টুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিলো বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।  

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সদ্য জারিকৃত প্রজ্ঞাপন ও বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের তদন্ত প্রতিবেদন ঘেটে জানা গেছে, তালতলী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুজ্জামান মিন্টুর বিরুদ্ধে আনিত বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুজ্জামানকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে তদন্তের দায়িত্ব দেয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ। তদন্তের নির্দেশ পেয়ে সরেজমিনে তদন্তের মাধ্যমে স্থানীয় ভুক্তভোগী ও স্বাড়্গীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে ২০১৭ সালের ১ আগস্ট একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুজ্জামান। 

বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুজ্জামান তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মিন্টুর বিরুদ্ধে উত্থাপিত ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ১৫টি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মিন্টু কর্তৃক তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজি তোফায়েল হোসেন, তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবু কমলেশ এবং এসআই আঃ খালেক এবং বড়বগী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহকারী মোঃ জসীম উদ্দিন মধুকে মারধরের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়া তালতলী সিনিয়র মাদ্রাসার দপ্তরী মোঃ শাহজাহান মিয়া, রাখাইন ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আরডিএফ)-এর চেয়ারম্যান উসিত মং, ছোট অংকজানপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুন্দর আলী ও তার ছেলে সবুজকেও মারধর করেছেন বলে তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে। 

অন্যদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মিন্টু তালতলী শহরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩ একর জমি দখল করে হাওলাদার স’ মিল স্থাপন করেছেন। এ ছাড়াও উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কাছ থেকে অবৈধ উৎকোচ নিয়েছেন। গভীর নলকূপ বরাদ্দ দেওয়ার নামে দুই শতাধিক স্থানীয় গ্রামবাসীর কাছ থেকে ১৫-২০ হাজার টাকা করে উৎকোচ নেন তিনি। তা ছাড়াও মনিরুজ্জামান মিন্টু তার ভাই তারিকুজ্জামান তারেক ও নয়ন ব্যাপারিকে নিয়ে এলাকায় ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসা চালিয়েছেন। এমনকি মিন্টুর প্রভাব খাটিয়ে তার পিতা এ কে এম কামরুজ্জামান তালতলী বন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি হয়েছেন বলেও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মিন্টু বলেন, তার মেয়ে অসুস্থ থাকায় তাকে নিয়ে তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। 

প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার খবর শুনেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধিকে এভাবে অপসারণ করা যায় না। তিনি এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট করবেন বলেও জানান। 

 



মন্তব্য