kalerkantho


তরুণীকে ১৫ দিন আটকে ধর্ষণ, নামানো হয় দেহব্যবসায়

পটুয়াখালী ও কলাপাড়া প্রতিনিধি    

১৬ জুলাই, ২০১৮ ০৪:৪২



তরুণীকে ১৫ দিন আটকে ধর্ষণ, নামানো হয় দেহব্যবসায়

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ১৫ দিন আটক রেখে এক তরুণীকে (১৯) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই তরুণী গতকাল রবিবার ভোরে পালিয়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিলে ঘটনাটি জানাজানি হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহজাহান ও শাহআলম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে পালিয়েছে। ওই তরুণীর বাড়ি বরগুনার পাতাকাটা গ্রামে। অভিযুক্তদের রক্ষা ও ঘটনা ধামাপাচা দিতে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল এবং পুলিশ তত্পরতা চালাচ্ছে।

ওই তরুণী জানায়, সৎ মায়ের অত্যাচারে টিকতে না পেরে কাজ এবং নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ১৫ দিন আগে সে কুয়কাটায় আসে। কুয়াকাটায় পৌঁছার পর তার অসহায়ত্নের সুযোগে কুয়াকাটা পৌর মার্কেটের রুমানা হোটেলে এন্ড রেস্টুরেন্টের মালিক শাহাজাহান তাকে কাজ দেয়। ওই রাত থেকেই ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে শাহজাহান। পরে পাশের সেলুনের শাহআলমও তাকে ধর্ষণ করে। এরপর হোটেলে তরুণীকে দিয়ে দেহ ব্যবসা করাতে বাধ্য করে শাহাজাহান।

গতকাল রবিবার ভোরে শাহজাহানের অনুপস্থিতিতে ওই তরুণী আশ্রয়ের জন্য স্থানীয় সালাম বাবুর্চির বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় চায়। সালাম বাবুর্চি বলেন, মেয়েটি ভোরে আমার বাড়িতে এসে আশ্রয়ের জন্য মিনতি করলে আমি তাকে আশ্রয় দেই। সকালে আমার ভাগিনা ইউসুফের মাধ্যমে মেয়েটিকে মহিপুর থানায় পৌঁছে দেই।

কুয়াকাটা ৩ নম্বর ওয়ার্ড পৌর যুবলীগের সভাপতি ও সালাম বাবুচির্র ভাগ্নে ইউসুফ বলেন, বিষয়টি স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার শাহআলমকে জানিয়ে মোটরসাইকেল চালক খলিলের সহায়তায় মেয়েটিকে মহিপুর থানা পুলিশের হেফাজতে পৌঁছে দেওয়া হয়। 

কুয়াকাটা পৌরসভার কাউন্সিলর শাহআলম বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এর আগেও এমন অভিযোগ শুনেছি। মেয়র আব্দুল বারেক মোল্লা বলেন, ওই মেয়েটিকে যখন তার বাসায় নেওয়া হয়েছে তখন আমি বাসায় ছিলাম না। আসলে এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে জড়িত শাহজাহান ও শাহ আলম মেয়রের লোক। তারা মেয়রের লোক হওয়ায় তিনি পুলিশকে মামলা না নিতে বলেন। পুলিশও অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। বর্তমানে পুলিশ ছাড়া কেউ জানে না ওই তরুণী কোথায় আছে।

এদিকে পুলিশ ও প্রভাবশালীরা তরুণীর সৎ মায়ের সঙ্গে যোগশাসজ করে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। মহিপুর থানার ওসি মিজানুর রহমানা বলেন, আমার কাছে কোনো তরুণীকে কেউ পৌঁছে দেয়নি। অভিযোগের বিষয়টি লোকমুখে জানতে পেরে আমি খোঁজ নিচ্ছি। আর ভিকটিমকে পেলে মামলা নেওয়া হবে।

প্রধান অভিযুক্ত শাহজাহানের মোবাইল নম্বরে একাধিক বার ফোন করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অপর অভিযুক্ত শাহআলম বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ঘটনাটি আমার স্ত্রীর কাছ থেকে শুনে অবাক হয়েছি।



মন্তব্য