kalerkantho


মেলান্দহে মিলের বয়লার বিস্ফোরণে নিহত ২

জামালপুর প্রতিনিধি    

১৫ জুলাই, ২০১৮ ১৫:০১



মেলান্দহে মিলের বয়লার বিস্ফোরণে নিহত ২

ফাইল ফটো

জামালপুরের মেলান্দহে একটি অটো রাইস মিলের বয়লার বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আজ রবিবার সকালে উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের কেয়া অটো রাইস মিলে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন রাইস মিলের প্রধান মিস্ত্রি আব্দুল করিম (৪৫) এবং তার সহকারী শ্রমিক মো. মিন্টু (৩৫)।

ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় পুলিশ দুইজনের লাশ উদ্ধার করে জামালপুর মর্গে পাঠিয়েছে। বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় আরেকজন মিস্ত্রি অক্ষত অবস্থায় বেঁচে গেছেন তবে পাশের একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই বাড়ির এক শিশুসহ দুইজন অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন। 

জানা গেছে, আজ রবিবার সকালে মেলান্দহ উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের বাঘাডোবা গ্রামে আবুল কালাম আজাদের কেয়া অটো রাইস মিলটি চালু করার প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় মিলের প্রধান মিস্ত্রি আব্দুল করিম ও মিস্ত্রি শহিদুর রহমান বয়লারের চুলা জ্বালিয়ে মিল চালু করার সাথে সাথে সকাল সোয়া ১০টার দিকে বিকট শব্দে বয়লার বিস্ফোরিত হয়। এতে বয়লারসহ মিলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। মিলের কিছু অংশে আগুনও ধরে যায়। এতে মিলের ভেতর প্রধান মিস্ত্রিসহ তিনজন আটকা পড়েন।

খবর পেয়ে মেলান্দহ ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মী এবং মেলান্দহ থানার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজে অংশ নেন। তারা মিলের ভেতর আটকে পড়া শ্রমিকদের মধ্যে প্রধান মিস্ত্রি আব্দুল করিম ও তার সহকারী মো. মিন্টুকে মৃত এবং শহীদুর রহমান নামের অপর এক মিস্ত্রিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

পুলিশ নিহত মিস্ত্রি আব্দুল করিমের বাড়ি শেরপুর জেলায় বলে জানিয়েছে। তার বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

নিহত মো. মিন্টু মেলান্দহ উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের নওশের আলীর ছেলে। দুজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, বিস্ফোরিত বয়লারটি এবং মিলের ভেতরের যন্ত্রাংশ ভেঙে ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে আছে। উৎসুক হাজার হাজার জনতা সেখানে ভিড় করেছেন।

স্থানীয়রা জানায়, বিস্ফোরণের সময় প্রচণ্ড শব্দে আশপাশের এক কিলোমিটারের মধ্যে মাটি কেঁপে ‌ওঠে এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বয়লার বিস্ফোরণের সময় প্রচণ্ড শব্দে মিলের যন্ত্রাংশ ছিটকে গিয়ে পাশের বাড়ির ঘরের টিনের চাল ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। এ সময় বাড়ির মালিকের ছেলে সোহেল রানা ও তার এক শিশু সন্তান অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। ক্ষতিগ্রস্ত ওই বাড়ির অন্তত ১০ জন সদস্য বাড়িতে ছিলেন না। বিকট শব্দ শুনে ভয়ে সোহেল রানা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় বাঘাডোবা গ্রামের জনবসতি এলাকায় এই রাইস মিলটি ২০০২ সালে স্থাপিত হয়। দীর্ঘদিনের পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ এই মিলটি চালু রাখার অযোগ্য হয়ে গেলেও মালিক আবুল কালাম আজাদ ঝুঁকি নিয়েই এটি চালু রেখেছেন। আজ রবিবার বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনার পর মিল মালিক গা ঢাকা দিয়েছেন। মিলসংলগ্ন তার বাসভবনে তালা ঝুলতে দেখা গেছে।

মেলান্দহ থানার ওসি মো. আজিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'নিহত মিস্ত্রি আব্দুল করিমের সঠিক ঠিকানা জানার চেষ্টা করছি। দুজনের লাশ জামালপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।' 

বয়লার বিস্ফোরণের খবর পেয়ে মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামিউল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, 'অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা এই মিলটি অনেক পুরনো এবং ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় হয়তো এ বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। তাছাড়া মিলটি জনবসতি  এলাকায় এবং এর চারদিকে কোনোরূপ সীমানা দেয়ালও নেই। এরকম একটি ভারি শিল্প চালানোর মতো কোনো পরিবেশ নেই সেখানে। আমরা তদন্ত করে দেখছি। মিল মালিকের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' 

  



মন্তব্য