kalerkantho


মাতামুহুরীর চোরাবালি

একে একে ডুবে গেল পাঁচ কিশোর

তিন লাশ উদ্ধার

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি    

১৫ জুলাই, ২০১৮ ১২:০৮



একে একে ডুবে গেল পাঁচ কিশোর

কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদীর চরে ফুটবল খেলে নদীতে গোসল করতে নেমে চোরাবালিতে পড়ে প্রাণ হারিয়েছে তিন কিশোর। এ ছাড়া আরো দুই কিশোর নিখোঁজ রয়েছে। তবে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চকরিয়া পৌর শহর চিরিঙ্গার মাতামুহুরী সেতুর নিচে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পাঁচ কিশোরই চকরিয়া পৌর শহর চিরিঙ্গার চকরিয়া গ্রামার স্কুলের ছাত্র। চারজন দশম শ্রেণির এবং একজন অষ্টম শ্রেণির। গতকাল রাত ৮টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তিন কিশোরের লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এ ঘটনায় পুরো চকরিয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এসব শিক্ষার্থীর পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

লাশ উদ্ধার হয়েছে চকরিয়া গ্রামার স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র ও চকরিয়া পৌর শহর চিরিঙ্গা আনোয়ার হোসাইনের দুই ছেলে আমিনুল হোসাইন এমশাদ এবং অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহরাব হোসেন, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও কাকারা ইউনিয়নের দক্ষিণ কাকারার শওকত আলীর ছেলে মো. ফরহান আলীর। চকরিয়া গ্রামার স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইয়্যিদ জাওয়াদ আর্ভি ও একই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা জলি ভট্টাচার্যের ছেলে তুর্য ভট্টাচার্যর সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানান চকরিয়া থানার ওসি।

গতকাল বিকেলে চকরিয়া গ্রামার স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্কুলের অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা শেষে স্কুলের একদল শিক্ষার্থী মাতামুহুরী নদীর চরে ফুটবল খেলতে যায়। ফুটবল খেলা শেষে তারা নদীতে গোসল করতে নামলে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে আমার নিজের সন্তানও রয়েছে।’

চকরিয়া থানার ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, নিখোঁজের প্রায় চার ঘণ্টা পর থেকে একের পর এক তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে একজন জেলের জালে আটকা পড়ে এক ছাত্রের মরদেহ। রাত ৮টা পর্যন্ত তিন শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়। চকরিয়া গ্রামার স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের ছেলে আর্ভি এবং একই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা জলি ভট্টাচার্যের ছেলে তুর্য ভট্টাচার্য নিখোঁজ রয়েছে। উদ্ধারে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন তৎপরতা চালাচ্ছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান কালের কণ্ঠকে বলেন, নিখোঁজের পর পরই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। কিন্তু জেলায় প্রশিক্ষিত কোনো ডুবুরি না থাকায় তাত্ক্ষণিক কোনো শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। 



মন্তব্য