kalerkantho


নরসিংদীতে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের অভিযোগে মানববন্ধন

নরসিংদী প্রতিনিধি   

২৫ জুন, ২০১৮ ২০:৫৯



নরসিংদীতে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের অভিযোগে মানববন্ধন

নরসিংদীর শিবপুরের খৈনকুট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের অভিযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। আজ সোমবার দুপুরে বিদ্যালয়ের মাঠে এলাকার বিভিন্ন পেশার কয়েক শ লোক মানববন্ধনে অংশ নেয়। এ সময় তাঁরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও যোশর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ফাসাদ মিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আনেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফাসাদ মিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটিকে অসহযোগিতা, সেচ্ছাচারিতা, স্বাক্ষর জাল করে টাকা উত্তোলন, বিদ্যালয়ের 
আয়-ব্যয়ের হিসেব না দেওয়া ও বিধি মোতাবেক নিয়মিত সভা না করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ করে আসছেন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. বাদল মিয়া। তিনি বিভিন্ন দপ্তরে প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগও করেন। 

গত রবিবার অভিযোগের তদন্তে আসেন উপজেলা শিক্ষ কর্মকর্তা। পূর্ব মৌখিক নোটিশে প্রধান শিক্ষককে যথাসময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার কথা বলা হলেও তিনি উপস্থিত থাকেননি। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে অভিযোগের তদন্তে আসায় ক্ষিপ্ত হয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক আসাদুজ্জামান, আবদুল খালেক এবং পরিচালনা কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান ফরাজি ও আবু কালাম উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সামনে থেকে পরিচালনা কমিটির সভাপতি বাদল মিয়াকে টেনে হিচড়ে নিয়ে একটি শ্রেণি কক্ষে কিল ঘুষি মারতে থাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন আহতাবস্থায় বাদল মিয়াকে উদ্ধার করেন। পরে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার গাড়িতে করেই বাদল মিয়াকে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সভাপতি বাদল মিয়া শিবপুর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। 
খবর পেয়ে বিকেলে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেন। সন্ধ্যায় খবর পাওয়া যায় কে বা কারা প্রধান শিক্ষকের কক্ষের চেয়ার টেবিল, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক ফাসাদ মিয়াও থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় এলাকাবাসী দুপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আনে এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর এবং সভাপতিকে মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন।

এ ব্যাপারে শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, দুইপক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। প্রাথমিক তদন্তে সভাপতিকে মারধরের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আর সভাপতির বিরুদ্ধে জাতির জনক ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের যে অভিযোগ করা হয়েছে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি। এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো ছিল। 

তিনি আরো বলেন, এলাকাবাসীর দাবি ও প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া যায় যে যারা সভাপতিকে মারধর করেছে তারাই নিজেদের গাঁ বাঁচাতে এই ভাঙচুর করেছে বলে প্রতিয়মান হয়।



মন্তব্য