kalerkantho


সংসদে প্রশ্নোত্তরে সেতুমন্ত্রী

পদ্মা সেতুর ৫৫ শতাংশ ভৌত কাজ সম্পন্ন হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ জুন, ২০১৮ ১৯:২৯



পদ্মা সেতুর ৫৫ শতাংশ ভৌত কাজ সম্পন্ন হয়েছে

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংসদে জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতু ও ঢাকা সিটিতে মেট্রোরেল। এই দুটি প্রকল্পের মধ্যে সেতু বিভাগের আওতাধীন পদ্মা সেতু প্রকল্পের ৫৫ শতাংশ ভৌত কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আর মেট্রোরেলের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। আজ সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। 

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে এ সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সরকারী দলের সদস্য উম্ম রাজিয়া কাজল। জবাবে মন্ত্রী আরো জানান, যানজট নিরসনে ও বৃহত্তর ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থাকে সুষ্ঠু, পরিকল্পিত, সমন্বিত ও আধুনিকায়নের জন্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মেট্রোরেল প্রকল্পটি ৫টি রুটের মাধ্যমে নগরবাসীকে দেওয়া হবে। এর মধ্যে ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়ন, পূর্ত কাজ, বিভিন্ন রুটে ভায়াডাক্ট ও স্টেশন নির্মাণ, ইলেকট্রিক্যালে- মেকানিক্যাল সিস্টেম, রোলিং স্টক ও ডিপো ইকুপমেন্ট সংগ্রহ, এই ৬টি প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে। এ লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট জাপানের কম্পানি কাওসাকি মিটসুবিশীর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ প্যাজের আওতায় ২৪ সেট ট্রেন, যার প্রতিটিতে ৬টি করে কোচ থাকবে। এ কাজ ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে।

জাসদের বেগম লুৎফা তাহেরের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকার যানজট সমস্যা সমাধানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হতে ইপিজেড পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা- আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। এটি জিটুজি ভিত্তিতে নির্মাণে চীন সরকারের মনোনীত একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি হয়েছে। অর্থনৈতিক বিভাগের মাধ্যমে ঋণ প্রস্তাবটি চীন সরকারের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর যানজট নিরসনে গণপরিবহন সুবিধা সম্পন্ন সাবওয়ে বা আন্ডারগ্রাউণ্ড মেট্রো নির্মাণে সম্ভ্যাবতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য প্রকল্প অনুমোদিত এবং সমীক্ষা পরিচালনার জন্য পরামর্শক নিয়োগ চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া যমুনা নদীর তলদেশে ট্যানেল নির্মাণে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

একই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, গত ৯ বছরে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় এক হাজার কোটি টাকার উর্ধ্বে যে সকল মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ, ইস্টার্ণ বাংলাদেশ ব্রিজ ইম্প্রুভমেন্ট, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক উন্নয়ন, জেলা মহাসড়ক উন্নয়নে ১০টি গুচ্ছ প্রকল্প এবং কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ প্রকল্প। এছাড়া সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের আওতায় আরো ২০টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন আছে।

ন্যাপের মিসেস আমিনা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের জানান, সড়ক পথে নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও দুর্ঘটনা রোধে মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় আনা হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালনারোধে মোটরযান রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস ও ড্রাইভিং লাইসেন্স অনলাইনে যাচাই-বাছাই পদ্ধতি প্রচলন করা হয়েছে। এছাড়া ভুয়া ও জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স শনাক্তকরণে বর্তমানে ইলেকট্রিক চিপযুক্ত ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স চালু করা হয়েছে। ফলে ভুয়া লাইসেন্স ব্যবহার কমেছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী জানান, ২০১৮ সালের মে মাস পর্যন্ত ৯ হাজার ১৪৮টি মামলার মাধ্যমে এক কোটি ৮৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩০ টাকা জরিমানাসহ ১৪৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও ৫২টি গাড়ি ডাম্পিং স্টেশনে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া চালকদের দক্ষতা বাড়ানোর উদ্দেশে সকল বিভাগীয় শহরে বিআরটিএ ট্রেনিং সেন্টার স্থাপণ ও প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ২০১৭ থেকে ২০১৮ সালের মে পর্যন্ত ৭৬ হাজার ২০৮ জন ড্রাইভারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। 

তিনি আরো জানান, জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত এসডিজি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ন্যাশনাল রোড সেফটি স্ট্যাটেজিক একশান প্ল্যান ২০১৭-২০২০ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। 



মন্তব্য