kalerkantho


ভোলায় তালিকাভুক্ত ১৫৪ মাদক কারবারি প্রকাশ্যে

ভোলা প্রতিনিধি    

২৫ জুন, ২০১৮ ১৩:৪৬



ভোলায় তালিকাভুক্ত ১৫৪ মাদক কারবারি প্রকাশ্যে

ভোলায় চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিরা। তাদেরকে দেখেও না দেখার ভান করছে জেলা পুলিশ।

পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিদিনই গ্রেপ্তার হচ্ছে মাদক কারবারি। কিন্তু বিশিষ্টজনদের দাবি, এখনো আসল মাদক ব্যবসায়ীদের পাঁচ শতাংশও আটক করতে পারেনি পুলিশ।

মাসব্যাপী কালের কণ্ঠ'র অনুসন্ধানীতে দেখা যায়, ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও ১৪ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে একটি তালিকা প্রকাশ করে। ওই তালিকায় ভোলা জেলায় হেরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা ও প্যাথেডিনসহ মাদক কারবারির সংখ্যা ছিল ১৫৪ জন। এদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও ডজন খানেক বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এদের মধ্যে ২৬ জন চিহ্নিত ফেনসিডিল ব্যবসায়ী ও সাতজন হেরোইনসহ বাকিরা সবাই ইয়াবা ও গাঁজা ব্যবসায় জড়িত।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় এসব কারবারিদেরকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এ শ্রেণি পেশার দিক দিয়ে অধিকাংশই কোনো না কোনো দলের রাজনৈতিক   মতাদর্শে বিশ্বাসী। এদর মধ্যে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যানদের ছেলে ও যুবলীগ, ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, যুবদল ও তরুণ লীগের নেতারা রয়েছেন।

জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদদের দিক দিয়ে চরফ্যাশন উপজেলায় মাদক কারবারির সংখ্যা বেশি। তবে মাদক কারবারির সংখ্যায় ভোলা সদর উপজেলা এগিয়ে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ভোলা একটি দ্বীপ জেলা হওয়ায়  দক্ষিণাঞ্চলের মাদক কারবারিদের মাদকের রুট হিসেবে ভোলাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই কারণে চট্টগ্রাম, নোয়াখালি, লক্ষ্মীপুর ও ঢাকার মাদক কারবারিদের পটুয়াখালী, বরিশাল, বাউফল, হিজলা, মুলাদি ও মেহেনন্দিগঞ্জের জন্য মাদকের রুট হিসেবে ভোলাই উত্তম। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে ভোলার মাদক কারবারিদের ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে ভোলায়  সহস্রাধিক মাদক কারবারির বেড়ে ওঠা।

এ বিষয়ে ভোলা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাফিন মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমাদের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভোলা মাদক কারবারিদের জন্য এখন আতঙ্কের নাম। কেউই আমাদের কাছ থেকে রেহাই পাবে না। ইতিমধ্যে  অনেককেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনেকেই নজরদারিতে রয়েছে। সেক্ষেত্রে আমাদের কিছু নিয়ম কানুন মেনে অভিযান পরিচালনা করতে হয়। হাতেনাতে  কোনো মাদক না পাওয়া গেলে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায় না।   



মন্তব্য