kalerkantho


সংসদে আইনমন্ত্রী

আদালতে মামলার জট কমাতে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ জুন, ২০১৮ ২৩:৫৫



আদালতে মামলার জট কমাতে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, দেওয়ানী আদালতে মামলার জট কমাতে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে পুরাতন দেওয়ানী মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রত্যেক আদালতে সমন জারি নিশ্চিত এবং দ্রুততম সাক্ষ্য গ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া পুরাতন মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সলিসিটরের নেতৃত্বে মনিটরিং সেল কাজ করছে।

আজ রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে এ সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন জাতীয় পার্টির সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী। জবাবে মন্ত্রী আরো জানান, মামলার জট নিরসন করার লক্ষ্যে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ নিরবিচ্ছিন্ন করা, তিন বছরের অধিক পুরাতন মামলা অপিরহার্যতা ব্যতীত মুলতবি না দেওয়া ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মামলার সংখ্যাধিক্য ও বিচারপ্রার্থী জনগণের সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মামলার দীর্ঘসূত্রিতা নিরসনে বিভিন্ন ব্যাচে ধারাবাহিকভাবে সহকারী জজ নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিচারকের নতুন পদ সৃজনের বিষয়ে প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে। 

আইনমন্ত্রী জানান, বিচার ব্যবস্থায় আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিচারপ্রার্থী জনগণের সুবিধার্থে সরকার ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টসহ ১৩টি জেলায় ডিজিটাল সিপ্লেবোর্ডের মাধ্যমে আদালতের দৈনিক কার্যতালিকা প্রদর্শনের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। দেওয়ানী আদালতের অবকাঠামো উন্নয়নে বিচারকদের এজলাস শেযার করতে না হয়, সে লক্ষ্যে ২৭টি জেলায় জেলা জজ আদালত ভবন সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নিম্ন আদালতের বিচারকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে বিচার প্রক্রিয়াকে গতিশীল করার লক্ষ্যে বিদেশে প্রশিক্ষণের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সরকারি খরচে অষ্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৪০ জন বিচারকের প্রশিক্ষণের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ২২৩ জন বিচারক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এ ছাড়া দেশ ও বিদেশে বিচারকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের কেস ম্যানেজমেন্টের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মামলা জট নিরসনে ট্রাক এলোকেশন সিষ্টেমে মামলাগুলোকে স্মল ট্র্যাক, ফাস্ট ট্র্যাক বা মাল্টি ট্র্যাকে ভাগ করা হয়। সাধারণত সেসব দেশ মামলা আর্থিক মূল্যবান অনুযায়ী গুরুত্ব ও জটিলতা বিবেচনায় মামলা এলোকেশন করেন। আমাদের দেশেও বিচারকদের এখতিয়ার দি সিভিল কোর্ট অ্যাক্ট, ১৮৮৭ অনুযায়ী মামলার আর্থিক মূল্যমান বিবেচনা করা হয়। অ্যালোকেশন প্রটোকলের উল্লেখযোগ্য একটি দিক হলো বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি। মামলা জট নিরসনে ও দ্রুততম সময়ে মধ্যস্থতার মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসারগণকে ২০১৫ সালে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তির ক্ষমতা প্রদান করা হয়। তাঁরা নিরলসভাবে এডিআর এর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। ইতিমধ্যে এডিআর এর মাধ্যমে ২০১৫ সাল থেকে ২০১৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৮ হাজার ১২৯টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। 

সরকারি দলের নুরুন্নবী চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, আইন কমিশনকে শক্তিশালী ও কার্যকর এবং গতিশীল করার লক্ষ্যে ৩টি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এগুলোর মধ্যে আইন কমিশনের স্থায়ী ও নিজস্ব অফিস স্থাপনের জন্য বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ১১-১২ তলা উর্ধ্বমুখি ভবনের কাজ চলমান রয়েছে। এ ভবন নির্মাণের জন্য ১৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা বরাদ্দ আছে। আর আইন কমিশনের গতিশীলতা ফেরাতে ৩১টি গবেষকসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির নতুন পদ সৃজনের প্রক্রিয়া চলমান আছে। 

আওয়ামী লীগের মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে বাড়ি ভাড়া নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিরসনের লক্ষ্যে ভাড়াটিয়াদের সুযোগ-সুবিধার দিক খেয়াল রেখে বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯১ পাস হয়। এ আইনে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে সম্পর্ক বিনষ্টকারী ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। কোনো ভাড়াটিয়া সংক্ষুব্ধ হলে তার প্রতিকার প্রাপ্তির সুব্যবস্থা আছে। এ আইনের আশ্রয় নেওয়া গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজার মামলা আদালতে বিচারাধিন আছে। ওই বছরে ৫৬৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। 



মন্তব্য