kalerkantho


পঞ্চগড়ে মরিচের ফলন কম, দাম বেশি

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

২৩ জুন, ২০১৮ ১৮:০১



পঞ্চগড়ে মরিচের ফলন কম, দাম বেশি

পঞ্চগড়ে এবার আগাম বর্ষণ আর রোগ বালাইয়ের কারণে মরিচের ফলন কিছুটা কম হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় মরিচের দাম দ্বিগুণ পাওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা। এছাড়া অন্য ফসলের তুলনায় কম খরচে বেশি মুনাফা হওয়ায় কৃষকরা মরিচ চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

চলতি মৌসুমে পঞ্চগড়ের পাঁচ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় চাষ হয়েছে গ্রীষ্মকালীন মরিচ। সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে আটোয়ারী উপজেলায়। এখানকার উৎপাদিত মরিচ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।

এখন চলছে গ্রীষ্মকালীন মরিচের ভরা মৌসুম। গাছে গাছে কাঁচা, আধা পাকা ও টকটকে লাল রঙের পাকা মরিচ শোভা পাচ্ছে। কৃষক পরিবার এখন মরিচ উত্তোলন ও শুকানোর আয়োজনে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

২০ টাকা ঢাকি দরে কৃষকের ক্ষেত থেকে মরিচ তুলে দিচ্ছেন নারী শ্রমিকরা। ফাঁকা মাঠগুলো এখন চাষিদের মরিচের লাল রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে। শুরুতে নিজেদের প্রয়োজনে মরিচ চাষ করলেও এখন পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে মরিচ চাষ শুরু হয়েছে। অন্য ফসলের তুলনায় অল্প খরচে বেশি মুনাফা পাওয়ায় দিন দিন মরিচ চাষ বাড়ছে।

জেলায় এবার স্থানীয় জাতের মরিচ ছাড়াও উচ্চফলনশীল হাইব্রিড জাতের বাঁশগাইয়া, মল্লিকা, বিন্দু, হট মাস্টার, সুরক্ষাসহ বিভিন্ন জাতের মরিচের ব্যাপক চাষ হয়েছে। উঁচু যেসব জমিতে অন্য ফসল ভালো হয় না সেসব জমিতেই বেশি মরিচ চাষ করা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় চলতি মৌসুমে সাড়ে ৯ হাজার হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। পাঁচটি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মরিচ চাষ হয়েছে আটোয়ারী উপজেলায়। শুধুমাত্র আটোয়ারী উপজেলাতেই মরিচ চাষ হয়েছেই তিন হাজার সাতশ হেক্টর জমিতে।

তবে এবার বৈশাখ জৈষ্ঠেই ভারি বর্ষণ, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় মরিচের বেশ ক্ষতি হয়েছে। অল্প দিনেই গাছ মরে যাচ্ছে।

মরিচের পচন দেখা দিচ্ছে। তাই গত বছরের তুলনায় মরিচের ফলন কম হয়েছে। গত বছর প্রতি বিঘা জমিতে মরিচ (শুকনো) উৎপাদন হয়েছি ১০ থেকে ১২ মণ। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ থেকে ৯ মণে। তবে বাজারে মরিচের দাম ভালো থাকায় গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ দাম পাচ্ছেন চাষিরা। গত বছর শুকনো মরিচ ২৫’শ টাকা মণ বিক্রি হয়েছিল আর এবার শুকনো মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪৫’শ টাকা মণ দরে। তাই মরিচের উৎপাদন কম হলেও লাভ পাচ্ছেন চাষীরা।

মরিচ চাষীরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করতে সার, বীজ, কীটনাশক ও মজুরি সব মিলে খরচ হয় ১০ হাজার টাকা। আর মরিচ বিক্রি করে খরচ বাদে লাভ আসে ৪০ হাজার টাকার মতো। যা অন্য কোন ফসল চাষ করে অল্প খরচে এতো মুনাফা সম্ভব নয়।

আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর এলাকার কৃষক কলিম উদ্দিন জানান, শিলা বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে মরিচের ফলন কম হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ দাম পাচ্ছি। তাই আমাদের লাভ হচ্ছে।

একই এলাকার কৃষক লাড়াই মিয়া জানান, এবার ফলন কম হলেও আমার এক বিঘা জমি থেকে ৫০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি। যার মধ্যে ৪০ হাজার টাকাই লাভ। অন্য কোনো ফসলে এরকম লাভ হয় না। তাই গ্রীষ্মকালে আমরা অন্য ফসল কমিয়ে দিয়ে মরিচ চাষ করি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামছুল হক জানান, পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন বাণিজ্যিকভাবে মরিচ চাষ হচ্ছে। এবার জেলায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে মরিচ চাষাবাদ হয়েছে। শিলা বৃষ্টি ও গ্রীষ্মকালেই ভারি বর্ষণে পঞ্চগড়ে মরিচের চাষাবাদে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তবে বাজার দর ভাল থাকায় কৃষকরা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ দাম পাচ্ছেন। পঞ্চগড়ে মরিচের ফলন কমলেও

 



মন্তব্য