kalerkantho


ঠাকুরগাঁওয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি   

২৩ জুন, ২০১৮ ১৩:৩৭



ঠাকুরগাঁওয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ছবি : ধর্ষক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ

ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী বৈরচুনা এলাকায় দশম শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ধর্ষক জাহিদুল ইসলাম জাহিদকে আসামি করে পীরগঞ্জ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্থ ছাত্রীর বাবা।

ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের অভিযোগ মামলা তুলে নিতে ধর্ষকের লোকজন নিজেরাই ধর্ষক জাহিদকে অন্যত্র সরিয়ে রেখে উল্টো অপহরণ মামলা দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয় ভীতি প্রদান করছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যাবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা।

নির্যাতিত পরিবারের অভিযোগ, বৈরচুনা বাজার এলাকার প্রভাবশালী নজরুল ইসলামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম জাহিদ দির্ঘদিন ধরে তাদের মেয়েকে স্কুল যাওয়ার পথে বন্ধুবান্ধবসহ কুপ্রস্তাব ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিরোক্ত করে আসছিলো। তার কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে মেয়েকে বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি দেখাতো জাহিদ। সর্বশেষ গত ৮ জুন সন্ধ্যায় বাসায় মেয়েকে একা পেয়ে জাহিদ ঘরে ঢুকে এবং জোর পূর্বক তাকে ধর্ষণ করে।

ক্ষতিগ্রস্থ স্কুল ছাত্রীর পিতা আজিজুর রহমান জানান, ৮ জুন বিকালে বোন আরজিনা বেগমের বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে তিনি ও তার স্ত্রী ফজিলা বেগম বাসায় আসেন। বাসায় এসে মেয়েকে ডাকাডাকি করলে ঘরের ভিতর থেকে মেয়ের গোঙানো শব্দ শুনতে পায়। এ সময় ঘরে ছুটে গিয়ে তিনি ও তার স্ত্রী দরজায় ধাক্কা দিলে ভিতর থেকে দরজা আটকানো অবস্থায় পায়। এ সময় তার মেয়ে বাবা মায়ের গলার শব্দ পেয়ে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করে। উপায়ন্তর না দেখে আজিজুর দরজায় বাহির থেকে তালা মেরে দেয় এবং প্রতিবেশিদের ডেকে নিয়ে আসে।

প্রতিবেশিদের উপস্থিতিতে ঘরের দরজা খুলে জাহিদকে দেখতে পান তারা। পরে প্রতিবেশিরা জাহিদের কাছে এভাবে ঘরে ঢুকার কারণ জানতে চাইলে সে জানায় সে আজিজুরের মেয়েকে সে ভালোবাসে। এ ঘটনায় প্রতিবেশীরা ধর্ষক জাহিদের পিতা মাতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ঘটনাস্থলে আসতে বললে তারা বিষয়টি কোনো গুরুত্ব দেয় না। উল্টো বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি দেখায়।

এদিকে জাহিদ ক্ষতিগ্রস্থ মেয়েটিকে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে নিজ বাড়িতে চলে যায়। পরবর্তীতে জাহিদের পরিবারের লোকজন স্থানীয় কিছু লোকের দ্বারা বিষয়টি মিমাংসার নামে টাকা পয়সা দেওয়ার প্রলোভন দেখায় এবং সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। বেশ কয়েক দিন সময়ক্ষেপণ করার পর জাহিদের পরিবার থেকে উল্টো বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি ও অপহরণ মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় কোনো উপায় না পেয়ে তিনি ১৩ জুন পীরগঞ্জ থানায় একটি ধর্ষণ মামালা করেন। ১৪ জুন ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নির্যাতিতার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. সুব্রত কুমার সেন জানান, সুমি আক্তার নামে একটি মেয়ে ধর্ষণ বিষয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। প্রাথমিকভাবে মেয়েটির শরিরে কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও মেয়েটি শারীরিকভাবে একটু দুর্বল ছিল। মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সম্পূর্ণ রিপোর্ট পেতে আরো কয়েকদিন সময় লাগবে।

প্রতিবেশি রুমি আক্তার বলেন, জাহিদ এলাকার প্রভাবশালী ও ধনী লোকের সন্তান হওয়ায় তার বিষয়ে কেউ কোনো প্রতিবাদ করতে ভয় পায়। আর তার দ্বারা এ পর্যন্ত যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তারাও মান সন্মানের ভয়ে বিষয় গুলোকে নিয়ে কোনো বাড়াবাড়ি করেনি। 

প্রতিবেশি লালবানু বলেন, যত রকম অত্যাচার সব গরিবদের ওপরেই হয়। বিচার চাইতে গেলে গরিবরা কখনোই সঠিক বিচার পায় না। এই রকম একটি ঘটনা ঘটিয়ে উল্টো মেয়ের পরিবারকেই বিভিন্ন রকম হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মেয়ের পরিবার গরীব বলেই এমন চাঁপ দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জাহিদের বাসায় গিয়ে তার পিতা নজরুল ইসলামসহ অন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে জাহিদের চাচা সামসুল হক জানান, এ ঘটনার পর জাহিদকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে মেয়ে পক্ষকে মিমাংসার জন্য বার বার তাগদা দিলেও তাদের কোনো প্রকার আগ্রহ দেখা যায়নি।

এ ব্যাপরে পীরগঞ্জ থানার ওসি আমিরুজ্জামান জানান, মেয়ের বাবা বাদি হয়ে জাহিদুল ইসলাম জাহিদকে আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা করেছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ আসামিকে ধরতে কাজ করছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রায়ই ঘটছে এ ধরণের ধর্ষণের ঘটনা। আর দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হয়ে বরং আইনের ফাঁক-ফোকর গলিয়ে বেড়িয়ে এসে আবারো একই ধরণের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে অপরাধীরা। তাই এটি প্রতিরোধে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সেই সাথে নির্যাতনকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করা জরুরি মনে করছেন জেলাবাসী।



মন্তব্য