kalerkantho


পালিয়ে বেড়াচ্ছে ভুক্তভোগীরা

লোহাগড়ায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগ

নড়াইল প্রতিনিধি    

২২ জুন, ২০১৮ ১৬:০৮



লোহাগড়ায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগ

নড়াইলের লোহাগড়ায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইসক্রিম কিনতে গিয়ে লম্পট দোকানদারের লালসার শিকার হয় শিশুটি। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লোহাগড়া পৌরসভার মশাগুনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে, ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাত থেকে অভিযুক্ত  ধর্ষক মিরাজ তার দোকান বন্ধ করে পালিয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে সন্ত্রাসীরা নড়াইল সদর হাসপাতালে  চিকিৎসাধীন শিশুটির পরিবারকে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। এ সময় তারা হুমকি দিয়ে  থানায় অভিযোগ না করার জন্য বলে। আতঙ্কে  পরিবারটি সদর হাসপাতাল ছেড়ে নড়াইল সদর থানায় আসে। নড়াইল সদর থানার আওতাধীন না হওয়ায় থানা থেকে সহযোগিতা না করায় ভুক্তভোগীরা হাসপাতাল ছেড়ে চলে যায়।

স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিশুটি বাড়ির পাশের মিরাজের দোকানে আইসক্রিম কিনতে যায়। দোকান বন্ধ দেখে দোকান লাগোয়া মিরাজের বাসায় তাকে ডাকতে গেলে লম্পট মিরাজ তার বাসায় আইসক্রিম আছে বলে শিশুটিকে ঘরের মধ্যে ডেকে নেয়। এ সময়  মিরাজের স্ত্রীসহ অন্য সদস্যরা বাইরে ছিলেন। একপর্যায়ে মিরাজ আইসক্রিম দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে।

শিশুটি বাড়ি ফিরে আসতে দেরি করায় পরিবারের সদস্যরা মিরাজের বাসা থেকে অসুস্থ শিশুটিকে উদ্ধার করে রাতে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে শিশুটিকে নড়াইল সদর হাসপতালে নেওয়া হয়। সেখানে শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

নড়াইল  সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সিনিয়র  স্টাফ নার্স মজিদা খাতুন বলেন, শিশুটিকে ধর্ষণের আলামত সংগ্রহের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্টের জন্য পাঠানো হয়েছে।

নির্যাতিত শিশুটির মা অভিযোগ করে বলেন, ধর্ষক মিরাজের পক্ষে কিছু লোক হাসপাতালে এসে আমাদের মামলা না করার হুমকি দিয়ে গেছে। আমার বাচ্চা মেয়েটার এত বড় ক্ষতি করল আবার উল্টো আমাদেরই ভয় দেখায়।' এ ঘৃন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

পুলিশ ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার করলেও ধর্ষক মিরাজকে আটক করতে পারেনি।

নড়াইলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মো. মেহেদি হাসান বলেন, শিশু বাচ্চাটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই আমরা ধর্ষককে আটকের চেষ্টা করছি,তবে সে পলাতক। তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ এই  রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত (বিকেল ৪টা) লোহাগড়া থানায় মামলা করতে পারেনি ভুক্তভোগীর পরিবার। 



মন্তব্য