kalerkantho


মুরাদনগরে ছাত্রলীগ-তাঁতী লীগ সংঘর্ষ, আহত ২

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি    

২০ জুন, ২০১৮ ১৫:৩১



মুরাদনগরে ছাত্রলীগ-তাঁতী লীগ সংঘর্ষ, আহত ২

কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের  দুপক্ষের এক পক্ষের ছাত্রলীগ ও অপর পক্ষে তাঁতী লীগের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় অফিস ভাঙচুরসহ তাঁতী লীগের দুই কর্মী আহত হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন উপজেলা তাঁতী লীগের কর্মী জিলানী (২২) ও হাসান (২১)।

জানা যায়, স্থানীয় সংসদ সদস্য ইউছুফ আব্দুল্লাহ হারুন সমর্থিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির চেয়ারে বসে আলোচনা করছিলেন। এ সময় কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকারের সমর্থিত তাঁতী লীগের কিছু নেতাকর্মী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির চেয়ার ছেড়ে বসতে বললে, কথাকাটাকাটির একপর্ষায়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে তাঁতী লীগের কর্মী জিলানী ও হাসান আহত হন। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি জাহাঙ্গীর আলম সরকার সমর্থিত আরিফকে আহ্বায়ক ও মরিয়ম আক্তার সাথীকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে মুরাদনগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা  করলে এমপি সমর্থিত ছাত্রলীগ পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে। মুরাদনগর আওয়ামী লীগ ও এর  সহযোগী সংগঠনের দুপক্ষের পাল্টা কমিটিই দলীয় নেতাকর্মীর মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের কারণ।

এ বিষয়ে উপজেলা তাঁতী লীগের আহ্বায়ক নূরুদ্দিন সরকার রিপন বলেন, 'উপজেলা আওয়ামী লীগ  কার্যালয়ে অবস্থিত সভাপতির চেয়ারে না বসার জন্য গত ১৫ জুন একটি নোটিশ দেওয়া হয়। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তা না মেনে সভাপতির চেয়ারে বসলে তাঁতী লীগের নেতাকর্মীরা ওই চেয়ার ছেড়ে অন্য চেয়ারে বসার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীরা আমার দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।'

স্থানীয় এমপি সমর্থিত উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ফয়সাল আহম্মেদ নাহিদ বলেন, 'আমরা আওয়ামী লীগ অফিসে গিয়ে বসলে নেশাগ্রস্ত দুজন এসে বলে অফিসে যে আসছেন অনুমতি নিছেন? তার এই প্রশ্নে আমার সঙ্গীয় একজন তাকে চলে যেতে বললেও সে যায়নি। একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়েছে তার সঙ্গে।

উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সৈয়দ আব্দুল আউয়াল বলেন, 'আমাদের পার্টি অফিসে একটি চেয়ার নির্ধারিত রাখা আছে। এই চেয়ারে জেলা নেতা বা স্থানীয় এমপি আসলে বসেন। কিন্ত আমি অফিসে বসা অবস্থায় নাহিদসহ কয়েকজন কোনো অনুমতি না নিয়েই অফিসে ঢুকে সিনিয়র নেতাকর্মীদের চেয়ারে বসে পড়েন। এ অবস্থায় জিলানী অনুরোধ করেন সভাপতির চেয়ারটি ছেড়ে দিয়ে অন্য চেয়ারে বসার জন্য। কোনো  কিছু বুঝে ওঠার আগেই অফিসের চেয়ার দিয়ে মারাত্মকভাবে মিটিয়ে আহত করা হয় তাঁতী লীগের সদস্য জিলানী ও হাসানকে। বিষয়টি দুঃখজনক। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারে।

কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন, 'এমপি ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুনের গ্রুপের লোকজন বিশৃঙখলা সৃষ্টি  করছে।

এমপি ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন গ্রুপের কেউ এই বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম মনজুর আলম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনা তৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। 



মন্তব্য