kalerkantho


শেষ হলো রংপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উৎসব

স্বপন চৌধুরী, রংপুর    

১৯ জুন, ২০১৮ ০৯:০৮



শেষ হলো রংপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উৎসব

শেষ হলো ঐতিহ্যবাহী রংপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই দিনব্যাপী শতবর্ষ পূতি উৎসব। বিভাগীয় নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি জ্ঞানের মশাল জ্বালিয়ে আলোকিত মানুষ গড়ার কাজটি করে যাচ্ছে। এই অঙ্গীকার নিয়ে যুগ যুগ ধরে শিক্ষার আলো ছড়ানো এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতবর্ষ পূর্তি উৎসবকে ঘিরে রং ছড়িয়ে পড়ে রংপুরে।

'শতবর্ষে শত প্রাণ, বাজুক মনে ঐক্যতান'- এ স্লোগানে প্রাচীনতম এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুই দিনব্যাপী শতবর্ষ পূর্তি উৎসবের দিন নির্ধারণ করা হয় ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে।

ব্রিটিশ আমলে ১৯১৩ সালের ২০ জানুয়ারি তৎকালীন জমিদার মনিন্দ্র চন্দ্র নন্দি ভুব বাহাদুর এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯১৫ সালে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ইংরেজি মাধ্যম স্কুল হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রদের ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ানো হলেও ১৯৫২ সালে তৎকালীন সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক আরোপিত কারিকুলাম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে জুনিয়র হাইস্কুলে রূপান্তর করা হয় ১৯৬১ সালে। ওই  সময় এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যায়নের পর অন্য কোনো স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিতে হতো। এতে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়। সে বছরই অর্থাৎ ১৯৬১ সালে জয়নালসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী পূর্ণাঙ্গ হাইস্কুল প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করেন। তৎকালীন জেলা প্রশাসক স্কুলে এসে শিক্ষার্থীদের দাবির কথা শুনে ম্যানেজিং কমিটিকে নিয়ে সভা করে সে বছরই প্রতিষ্ঠানটিকে পূর্ণাঙ্গ হাইস্কুলে রূপান্তর করেন। হাঁটিহাঁটি পা পা করে ২০১৪ সালে শতবর্ষ পূর্তি হয় রংপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের।

ঈদের দ্বিতীয় দিন গত রবিবার উৎসবকে ঘিরে সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকদের পদচারণায় মিলনমেলায় পরিণত হয় বিদ্যালয় চত্বর। সাবেক শিক্ষার্থীরা তাদের শৈশবের এই স্কুলের কথা স্মরণ করে স্মৃতিচারণ করেন। বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী উৎসব উদ্বোধন করেন রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।

উদ্বোধনকালে মেয়র বলেন, নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যুগ যুগ ধরে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। এখানকার শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে বিভিন্ন উচ্চ পর্যায় থেকে রংপুর উচ্চ বিদ্যায়ের মুখ উজ্জ্বল করেছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। এর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে উৎসব ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রংপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উৎসব উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক রেজাউল ইসলাম মিলনের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উৎসবের প্রধান উপদেষ্টা আবুল মুযন আজাদ, সহকারী প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, শাহ্ নবী উল্লাহ পান্না। এরপর দেশীয় সংস্কৃতির আদলে ১৯৪৯ ব্যাচ থেকে শুরু করে ২০১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী, শিক্ষক-অভিভাবকরা বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নেন। শোভযাত্রাটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এরপর বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ ও ফটোসেশনে অংশ নেন।

উৎসবের শেষ দিন গতকাল সোমবার ছিল ব্যাচ পরিচিতি ও স্মৃতিচারণ, বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন পর্যায়ে থাকা কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, আলোচনা, সমাপনী অনুষ্ঠান, ও র‌্যাফেল ড্র। এ ছাড়া উৎসবের দুই দিনই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

গতকালের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা। বিশেষ অতিথি ছিলেন রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু ও পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

শতবর্ষ পূর্তি উৎসব উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক রেজাউল ইসলাম মিলন বলেন, দুই দিনব্যাপী উৎসবে ব্যাপক আনন্দ উল্লাস করেছে বিশেষ করে সাবেক  শিক্ষার্থীরা। তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে পুরনো স্মৃতিচারণ করেছে দিনভর। এ মেল বন্ধন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ রংপুরের উন্নয়নে একটি বড় শক্তি হিসেবে কাজ করবে। 



মন্তব্য