kalerkantho


তিস্তা ব্যারাজে দর্শণার্থীদের উপচে পড়া ভীড়

জলঢাকা(নীলফামারী) প্রতিনিধি    

১৮ জুন, ২০১৮ ১৭:৪৬



তিস্তা ব্যারাজে দর্শণার্থীদের উপচে পড়া ভীড়

তিস্তা ব্যারাজ এলাকাটি দৃষ্টিনন্দন হওয়ায় সেখানে দর্শণার্থীদের উপচে পড়া ভীড় শুরু হয়েছে। উত্তরের জেলাগুলো হতে আসা তরুণ-তরুণী আর নানা পেশার দম্পত্তিদের সমাগমে মুখরিত ব্যারাজ এলাকাটি। 

দেশের উত্তর জনপদে তিস্তা নদীর পানি আটকিয়ে শুস্ক মৌসুমে পতিত থাকা জমিগুলোতে সেচ দিয়ে অধিক বোরো ধান ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনসহ বুড়িমারী স্থলবন্দরের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য নির্মাণ করা হয় তিস্তা ব্যারাজ। ব্যারাজটি নীলফামারীর ডিমলা ও লালমণিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার মধ্যবর্তী স্থান গড্ডিমারীতে অবস্থিত। এখানেই দেশের বৃহৎ সেচ খালের উৎসমুখ। আর এই খাল বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর ও বগুড়া জেলায় অধিক হারে বোরো ধান উৎপাদনে অপরিসীম ভূমিকা রাখছে।

সরেজমিন গতকাল রবিবার ও আজ সোমবার ঘুরে দেখা যায়, তিস্তা ব্যারাজের নজরকারা সৌন্দর্য মণ্ডিত পরিবেশ উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিনই দর্শণার্থীরা আসলেও ঈদকে ঘিরে শুরু হয়েছে উপচে পড়া ভীড়। প্রতি ঈদের মতো এবারও তার ব্যত্য় ঘটেনি। একটু আনন্দ-বিনোদন কিংবা নির্মল বাতাসের শ্বাস নিতে শহরের কার্বন মিশ্রিত দূষিত বায়ু আর চার দেয়ালের মাঝে থাকা  চাকরীজীবি-গৃহিনী, দম্পতি ঈদের ছুটিতে এখানে বেড়াতে আসছেন। সকাল হতে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শণার্থীরা অবস্থান করছেন ব্যারাজের চারিদিকে। বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষের ভিড়ে এলাকাটি মুখরিত।

ব্যারাজ এলাকার মোরসেদুল, সফিযার রহমান ও এজাহারুল হক জানান, এখানে সব সময় মানুষের ভির লেগেই থাকে। শীতকালে দেশের নানা প্রান্ত হতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বনভোজন করতে এখানে আসে। সে সময় শতাধিক ছোট-বড় গাড়ির জটলাও থাকে। উত্তরের জেলাগুলোর মানুষজন যারা চাকরি করেন তারা ঈদ, পূজাসহ বিভিন্ন পর্ব উপলক্ষে নাড়ীর টানে বাড়িতে আসে, তখন তাদের এখানে উপস্থিতি বেশী হয় এবং ভীড় বাড়ে। সেই সাথে বসে নানান পসরার অস্থায়ী দোকান। 

দর্শণার্থী গার্মেন্টসকর্মী জাহেদা, মোর্শেদা, লাভলী ও তানিয়া জানায়, দুই ঈদে আমরা বাড়িতে আসি। সেই সুবাদে এখানেও ঘুরতে আসি। 

পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা দিনাজপুরের এনজিও কর্মী হাসিবুল ইসলাম, পঞ্চগড়ের ব্যবসায়ী শামীম রহমান ও রংপুরের সেকেন্দার আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, হিমালয় পর্বত নিকটে হওয়ায় গ্রীষ্মকালে এখানে শীতল বাতাস বয়। শুনেছি রাত নামলেই দার্জিলিংয়ের আলো এখান থেকে দেখা যায়। এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ভাল। শুধুমাত্র ভিভিআইপিদের ব্যবহার ও রাত্রি যাপনের জন্য সংরক্ষিত অবসর নামে একটি গেস্ট হাউস। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে থাকবে সে ব্যবস্থাও নেই। এখানে হোটেল-মোটেল বা রেস্ট হাউসের দরকার আছে। এলাকাটি সরকার মনে করলেই পর্যটন এলাকায় রুপান্তরিত করতে পারেন। এতে সরকারের আয় বাড়বে। পাশাপাশি দর্শণার্থীরা ঘুরেও আনন্দ পাবে।

 



মন্তব্য