kalerkantho


মওদুদ আহমদকে গণসংযোগে বাধা দেয়ায় বিএনপির প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী   

১৭ জুন, ২০১৮ ২৩:২৫



মওদুদ আহমদকে গণসংযোগে বাধা দেয়ায় বিএনপির প্রতিবাদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট এলাকায় গণসংযোগ ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে বাধা দেয়ায় এবং তার গ্রামের বাড়িতে পুলিশ দিয়ে তার চলাচলে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ জেলা নেতারা এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের প্রত্যক্ষ নির্দেশে তার প্রতি এ ধরনের হীন ঘটনায় গভীর উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে এটিকে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বর্হিভূত ঘটনা বলে মনে করে।

রবিবার বিএনপি কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্যা বুলু ও মোহাম্মদ শাহজাহান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি এ জেড এম গোলাম হায়দার বিএসসি এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

লিখিত প্রতিবাদে জানানো হয় যে, দীর্ঘ সময় যাবৎ জেলায় রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্বেও রাজনৈতিক সহঅবস্থান এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল। ওবায়দুল কাদের বহু পুরনো একটি রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর, তাঁর প্রত্যক্ষ নির্দেশে তার নির্বাচনী এলাকায় এ ধরনের পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত এবং নিন্দনীয় বলে দাবি করে। 

এ ধরনের রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তারা তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং অনতিবিলম্বে এলাকায় সকলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির জোর দাবি জানান। অন্যথায়, জনগণ এর সমূচিত জবাব দিবে বলে জানান।

তারা আরো জানায়, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ শনিবার বিকেলে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের মানিক নগর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নিজ নির্বাচনী এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য গাড়িযোগে বের হওয়ার সময় পুলিশ তাকে নিরাপত্তার কথা বলে আটকে দেয়। ফলে তিনি তার বাড়ি থেকে গাড়িতে উঠলেও তার বাড়ির সামনে প্রধান ফটকে পুলিশের বড় ট্রাক দিয়ে আটকে রাখা হয়। ফলে তিনি তার নেতাকর্মীদের নিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পারেননি। এর আগে ১১ জুন রামপুর ইউনিয়নের পূর্ব নির্ধারিত একটি দলীয় ইফতার অনুষ্ঠান পুলিশ গিয়ে প্যান্ডেল ভেঙ্গে দেয় এবং ইফতার সামগ্রী নিয়ে যায় এবং চুলাতে পানি ঢেলে দেওয়ায় তা আর হতে পারেনি। পরে ইফতার অনুষ্ঠানে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তার গাড়ির সামনে গিয়ে অবোরোধ করে রাখায় তিনি বাধ্য হয়ে বাড়িতে ফিরে যান।

পরে ওই দিন দুপুর ১টায় তিনি তাঁর নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁর নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ইফতার ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পুলিশি বাধা দেয়া নিয়ে অভিযোগ করে বলেন, এ ঘটনার জন্য ওবায়দুল কাদেরকে দায়ী করে বলেন তার নির্দেশে পুলিশ তাকে বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছে না। আমি নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসন থেকে ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু আজ আমাকে আমার নিজ এলাকায় সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ করতে দেয়া হয় না। থানার ওসিরা আমার সহকারীদের ফোন করে নিষেধাজ্ঞা জারির কথা বলেন। আমার বাড়ির চারপাশে পুলিশ দিয়ে ঘেরাও করে রাখে। এসব পুলিশ সদস্যরা আমার প্রতিবেশীদের নানাভাবে হয়রানি করছে। 



মন্তব্য