kalerkantho


‘শুধু লেখাপড়া নয়, বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাস জানতে হবে’

জামালপুর প্রতিনিধি   

১৭ জুন, ২০১৮ ১৯:৩৫



‘শুধু লেখাপড়া নয়, বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাস জানতে হবে’

নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেছেন, ‘শুধু লেখাপড়া নয়, বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাস জানতে হবে। কিভাবে জন্ম হয়েছে বাংলাদেশের। বঙ্গবন্ধু কে। বঙ্গবন্ধু কি দিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে নিয়ে কি কি স্বপ্ন দেখতেন। এগুলো কিন্তু নতুন প্রজন্মকে জানতে হবে। তাদেরকে জানাতে হবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। শুধু শিক্ষায় ডিগ্রি নিলেই মানুষ হওয়া যায় না। মানুষের মতো মানুষ হতে হবে। প্রত্যেককে সময়ের প্রতি জ্ঞান থাকতে হবে।’

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম আজ রবিবার দুপুরে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার চর বানিপাকুরিয়া ইউনিয়নের ভাবকি জিএম উচ্চ বিদ্যালয়ে তিনদশকের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন, ‘বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের স্মরণীয় করে রাখতে হবে। তাদের জন্যই আজ শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু সেই বিদ্যালয়ের নাম ভাবকী জিএম উচ্চ বিদ্যালয় হলো কিভাবে। ‘জিএম’ মানে ‘গফুর মন্ডল’ তা আমি নিজেই জানতাম না। আজকে এ অনুষ্ঠানে এসে জানলাম বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছেন দানবীর গফুর মন্ডল। তাই এই বিদ্যালয়ের নাম হওয়া উচিৎ ছিল ভাবকী গফুর মন্ডল উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠাতার নাম সবার সামনে নিয়ে আসলে মানুষ কিন্তু অনুপ্রাণিত হবে। আজকের সমাজেও অনেকেই এই ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়তে এগিয়ে আসবে।’

তিনি ম্যানেজিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে নাম সংশোধন চেয়ে শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করার তাগিদ দেন।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এরপর নয় মাস সশস্ত্র যুদ্ধে আমাদের স্বাধীনতা অর্জন করতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। অনেক রক্ত দিয়ে লড়াই করতে হয়েছে। লাখ লাখ মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেছে। সেই যুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছে। ২ লাখ ৭০ হাজার মা-বোনের ইজ্জত হরণ হয়েছে। পাকিস্তানি হানাদারদের পরাজিত করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি।’ 

মির্জা আজম ছাত্র-শিক্ষক সবাইকে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটি ভালো করে পড়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘ওই বইটি পড়লেই জানা যাবে বঙ্গবন্ধু মানেই মুক্তিযুদ্ধ। বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। বইটি পড়লেই প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যে দেশপ্রেমের জন্ম হবে। সেই দেশপ্রেম নিয়ে যদি সবাই কাজ করি তাহলে সবকিছুতেই আমাদের উন্নয়ন সম্ভব হবে।’   

প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন, ‘আজকে আমরা মধ্যম আয়ের দেশ। কিন্তু আজ থেকে দশ বছর আগে কিন্তু বাংলাদেশ এমন ছিল না। দশ বছর আগে বাংলাদেশ ছিল বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ। আমরা ছিলাম ভিক্ষুকের জাতি। আজকে দেখেন ঈদের মধ্যে অন্তত শতাধিক প্রাইভেট কার নিয়ে অনেকেই বাড়িতে ঈদ করতে আসছে। কিন্তু দশ বছর আগে ঈদের মধ্যে দুই-তিনটা গাড়ি দেখা যেতো। বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় নয় বছরের ব্যবধানে ৫৪০ ডলার থেকে বেড়ে ১৭০০ ডলার হয়েছে। এটাই হলো গত দশ বছরে শেখ হাসিনার অর্জন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্জন। ভিক্ষুকের জাতি থেকে আমরা উন্নয়নশীল জাতিতে রূপান্তরিত হয়েছি।’

প্রথম পর্বে স্মারক বেলুন উড়িয়ে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন এবং বক্তব্য রাখেন উদ্বোধক জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী। এরপর শিক্ষার্থীরা জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে।

পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন এ আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক মো. রফিকুল ইসলাম।

এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামালপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী, সাবেক সভাপতি সরদার মহিউদ্দিন, চরবানিপাকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদত হোসেন ভুট্টু প্রমুখ। আলোচনা সভা উপস্থাপনা করেন এ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক শেখ নাজমুল হাসান। পরে বিকেলে অনুষ্ঠান মঞ্চে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।



মন্তব্য