kalerkantho


সবজি চাষে স্বাবলম্বী কৃষক রশিদুল

কর্মসংস্থান হয়েছে বেকার দিনমজুরদের

আসাদুজ্জামান, জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি   

১৬ জুন, ২০১৮ ২৩:৩৩



সবজি চাষে স্বাবলম্বী কৃষক রশিদুল

ছবি: কালের কণ্ঠ

নীলফামারীর জলঢাকায় মৌসুমী সবজি চাষ করে এখন আর্থিকভাবে সচ্ছল ও স্বাবলম্বী হয়েছেন রশিদুল ইসলাম। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে চাহিদা মেটাচ্ছে তার উৎপাদিত সবজি।

সরেজমিন উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের হাড়োয়া শিমুলবাড়ী গ্রামে দেখা যায়, নজর কাড়া- ঢেউ তোলা, মোটা সুতা ও বাঁশ দিয়ে  তৈরি মাঁচা। সেই মাঁচার নিচে ঝুলে আছে শসা, লাউ, করলা, চিচিঙ্গা ও জালি কুমড়া। রশিদুলের পরম যত্নে উৎপাদিত সবজির সমারোহ দেখতে একটু হলেও যে কেউ তার সবজি ক্ষেতের পাশে থামবেই। 

কৃষক রশিদুল জানায়, তিন বছর পূর্বে পার্শ্ববর্তী নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষীচাপ ইউনিয়নে গেলে সেখানে দেখি, প্রায় বাড়ির পাশের জমিগুলোতে বিভিন্ন জাতের সবজির আবাদ করছে স্থানীয়রা। বিষয়টি আমার কাছে ভালো লাগে। আমি কয়েকজন সবজি চাষির সঙ্গে কথাও বলি। তারা সে সব সবজি স্থানীয় পাইকারদের নিকট বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবানও হচ্ছেন। সেই থেকে সবজি চাষে ঝুকে পড়া। গত বছর আমি ৪০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে শসা, লাউ, করলা, চিচিঙ্গা ও জালি কুমড়া বা চাল কুমড়া আবাদ করি। সে বছর সব খরচ বাদ দিয়ে আমার আয় হয়েছে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা। তাই এবছর ১০ বিঘা জমিতে সবজি চাষ করি। এবার ফলনও হয়েছে বাম্পার, দামও পাচ্ছি ভালো।

রশিদুল আরো জানায়, আমার নিজের মেধায় এতদুর এগিয়ে আসা। তবে স্থানীয় কৃষি অফিসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী আমাকে আজও সহযোগীতা করতে এগিয়ে আসেনি। তারা আমাকে পরামর্শ- সহযোগিতা দিলে হয়তো সবজি ক্ষেতে বিভিন্ন রোগ বালাই মুক্ত করতে আগাম পদক্ষেপ নেয়া যেত। রশিদুলের বাবা দফাদার আব্দুল জব্বার জানায়, আমার চার ছেলে ও তিন মেয়ে নিয়ে অভাবের সংসার। রশিদুলের বুদ্ধিতে এলাকার অনেক বেকার দিনমজুরের সবজির মাঠে কাজের সুযোগ হয়েছে। তাদের যেমন কর্মসংস্থান হয়েছে, তেমনি এখন আমরা সংসারে স্বচ্ছলতার মুখ দেখছি। 

তিনি আরো জানান, আমরা স্থানীয়ভাবে কিষাণ বাজারের মাধ্যমে প্রতিটা লাউ-জালি কুমড়া ২০ টাকা, প্রতিকেজি চিচিঙ্গা ২৫-৩০ টাকা, শসা ২০-২৫ টাকা ও করলা ৩০ টাকা দরে বিক্রয় করছি। এসব সবজি তারা আমাদের নিকট হতে সংগ্রহ করে রাজধানী ঢাকা শহরের বিভিন্ন বাজারে দেন। জলঢাকা ও নীলফামারী সদর উপজেলা গ্রাম বিকাশ এন্টারপ্রাইজ লি. (জিবিকে)-এর নিয়োগপ্রাপ্ত এমডিও (র্মাকেট ডেপলপমেন্ট অফিসার) হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, গ্রাম বিকাশ এন্টারপ্রাইজ লি. (জিবিকে এন্টারপ্রাইজ) এর বাস্তবায়নে ও সিনজেন্টা ফাউন্ডেশন ফর সাস্টেনেবল এগ্রিকালচার (এসএফএসএ) এর সহযোগিতায় রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এসব সবজি বাজারজাত করা হয়। 

এ ছাড়াও আমরা আগ্রহী কৃষকদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। তিনি আশাবাদী রশিদুলকে দেখে এলাকাটিতে আগামী বছর অনেকেই সবজি চাষে উৎসাহিত হবেন। এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কাশেম আযাদ বলেন, ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চাষিদের পুষ্টিমান উন্নয়নের জন্য সরকারি প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এমন উদ্যোগী কৃষককে আমরা স্বাগত জানাই। তাদের সহযোগিতায় আমরা এগিয়ে আসবো।’ এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, সবজি চাষে এলাকায় সাড়া জাগানোর জন্য রশিদুলকে ধন্যবাদ। আমাদের সরকার কৃষি বান্ধব। সরকার এমন উদ্যোক্তাদের সার্বিক সহযোগীতায় এগিয়ে আসবে।



মন্তব্য