kalerkantho


মৌলভীবাজারের বন্যা মোকাবেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন

আবদুল হামিদ মাহবুব, মৌলভীবাজার   

১৬ জুন, ২০১৮ ০১:২৪



মৌলভীবাজারের বন্যা মোকাবেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন

মৌলভীবাজার জেলার ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদরে সেনাবাহিনীর পৃথক পৃথক টিম এসে পৌঁছেছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা বন্যাকবলিত এলাকাগুলো থেকে ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়া পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানের আশ্রয় শিবিরগুলোতে এনে ঠাঁই দেবেন।

মৌলভীবাজার শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মনু নদে গত ১২ ঘণ্টায় ২০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে রাত ১২টায় বিপদসীমার ১৪৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। শহরের মনু নদ তীরবর্তী এম সাইফুর রহমান (সেন্ট্রাল রোড) সড়কের বন্যা প্রতিরক্ষা দেওয়ালের বিভিন্ন ছিদ্র ও দেওয়ালের সংযোগের ফাঁক দিয়ে শহরে পানি প্রবেশের গতি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। সেনাবাহিনীর একটি টিম বন্যা প্রতিরক্ষা দেওয়াল পরিদর্শন করে বন্যা প্রতিরক্ষা দেওয়ালের পাশে দ্রুত বালু ভর্তি বস্তা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। 

শহরের কাছে মনু নদে পানি আরো ২০ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেলে দেওয়াল উপচে এম সাইফুর রহমান সড়কে পরবে। দ্রুত বেগে পানি পড়ে সড়কের পিচ নষ্ট হয়ে রাস্তা দুর্বল হলে দেওয়াল ধসে পড়তে পারে। তখন সারা শহর ৭ থেকে ৮ ফুট পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সড়ক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্যা প্রতিরক্ষা দেওয়াল ধসে পড়তে না পারে তার জন্য সেনাবাহিনী বালুর বস্তা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী জানান।

তিনি রাত ১২টা ১০ মিনিটে কালের কণ্ঠকে বলেন, তার হাতে বর্তমানে ১০ হাজার বস্তা রয়েছে। পৌর মেয়র মো. ফজলুর রহমান আরো ২০ হাজার বস্তা যোগার করে দিচ্ছেন। তাছাড়া সিলেট ও সুনামগঞ্জ থেকেও বস্তা সংগ্রহ করা হচ্ছে। আজ শনিবার সকাল থেকে বালু ভর্তি বস্তা বন্যা প্রতিরক্ষা দেওয়াল পাশে দেওয়ার কাজ শুরু করা হবে।

এদিকে, বন্যাকবলিত কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর সড়কে শুক্রবার বিকালে বন্যার পানির স্রোতে দুই ব্যক্তি ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এরা হলেন আবদুস সাত্তার ও আবদুল করিম। জেলার বন্যাকবলিত কুলাউড়া, কমলগঞ্জ ও রাজনগর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।



মন্তব্য