kalerkantho


গ্রামীণ ব্যাংকের মাঠকর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, টাকা ছিনতাই

মাদারীপুর প্রতিনিধি   

১৫ জুন, ২০১৮ ০০:৩০



গ্রামীণ ব্যাংকের মাঠকর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, টাকা ছিনতাই

মাদারীপুরের রাজৈরে গ্রামীণ ব্যাংকের এক কর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় ওই ব্যাংক কর্মীর কাছে থাকা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের নয়াকান্দি সুইচ গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যাংক কর্মীর নাম সোহেল চৌধুরী (৩৫)। সে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুর এলাকার ইব্রাহিম চৌধুরীর ছেলে। সে গ্রামীণ ব্যাংকের খালিয়া শাখায় মাঠকর্মী হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গ্রামীণ ব্যাংকের খালিয়া শাখা থেকে সকাল ৮টার দিকে সোহেল চৌধুরী নয়াকান্দি এলাকায় গ্রাহকের ঋণের টাকা উত্তোলন করতে যায়। ওই গ্রামের শতাধিক গ্রাহকের টাকা উত্তোলন শেষে মোটরসাইকেলযোগে তিনি পাশের গ্রামে যাওয়ার জন্য রওনা হয়।

ওই মাঠ কর্মী সুইচ গেট এলাকায় এলে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে গতিরোধ করে ঘিরে ধরে। তার কাছে থাকা সব টাকা ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ওই কর্মী টাকা ও ব্যাগ না দিয়ে চিৎকার করলে দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে। পরে ওই মাঠকর্মীকে পাশের একটি পাটক্ষেতে ফেলে টাকার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিয়ে। পরে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে একটি ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও গ্রামীণ ব্যাংকের কাগজপত্র উদ্ধার করে। 

গ্রামীণ ব্যাংকের খালিয়া শাখার ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল দশটার দিকে গ্রাহকদের কাছ থেকে ঋণের টাকা (কিস্তি) নিয়ে তিনি পাশের আরেকটি গ্রামে যাচ্ছিলেন। পথের মধ্যে তাকে দুর্বৃত্তরা ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে হত্যা করে। ধারণা করা হচ্ছে পূর্বে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে টাকা ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। তার কাছে গ্রাহকের কমপক্ষে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিল।’

গ্রামীণ ব্যাংকের অপর সহকর্মীরা জানান, সোহেল বৃহস্পতিবার সকালে খুব তাড়াহুড়া করে বেড়িয়ে যায়। এবং বলে আমার বাচ্চাদের ঈদের পোশাক নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে। ওরা আমার পথের দিকে চেয়ে আছে। তবে ওর আর বাচ্চাদের সঙ্গে ঈদ করা হলো না। বাড়ি যাচ্ছে তবে লাশ হয়ে। সহকর্মীর এমন মৃত্যু কোনোভাবে তারা মেনে নিতে পারছে না।

রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল মোর্শেদ বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহতের গলায় ধারাল অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। প্রচণ্ড রক্ত বের হওয়ার জন্য তার মৃত হয়। আমরা মরদেহটি ময়না তদন্তের জন্য মাদারীপুর মর্গে পাঠিয়েছি। 


মন্তব্য