kalerkantho


ঈদে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ছুটছে মানুষ

শিবচরের কাঁঠালবাড়ি ঘাটে জনস্রোত, নৌমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ

মাদারীপুর প্রতিনিধি   

১৪ জুন, ২০১৮ ২৩:৫৭



শিবচরের কাঁঠালবাড়ি ঘাটে জনস্রোত, নৌমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ

শাজাহান খান

বৃহস্পতিবার বিকেলে নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান মাদারীপুর শিবচরের কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাট পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের কাছে বলেন, ‘ঈদে যাত্রীদের নির্বিঘ্নে বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করতে নৌপথে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে মন্ত্রণালয়ের অফিসার, জেলা প্রশাসন, ম্যাজিস্ট্রেট, র‌্যাব, পুলিশ ঘাট এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত ১টি ফেরি বাড়ানো হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সামাল দিতে লঞ্চ চালক ও লঞ্চ মালিকদের কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে, যাতে এবার ঈদে যাত্রীরা যেন কোনো রকম দুর্ভোগের শিকার না হয়। 

এ ছাড়াও উভয় ঘাট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ সেই দায়ভার গ্রহণ করবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে শিবচর কাঁঠালবাড়ি ঘাটে ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় মুখরিত কাঁঠালবাড়ি ও কাওড়াকান্দি ঘাট। 
বুধবার সকাল থেকে চাপ বাড়লেও বিকেলে ভিড় ছিলো চোখে পড়ার মতো। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে চাপ সহনীয় থাকলেও বিকেল থেকে যাত্রীদের চাপ জনস্রোতে রূপ নেয়। লঞ্চ, স্পিডবোট ও ফেরিতে ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ এসে নামছে কাঁঠালবাড়ি ও কাওড়াকান্দি ঘাটে। 

সকালের দিকে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় লঞ্চ ও স্পিডবোটে যাত্রী চাপ বৃদ্ধি পায়। এই সুযোগে স্পিডবোটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে যাত্রীদের অভিযোগ। পথে-ঘাটে নানা হয়রানি ও দুর্ভোগ সত্বেও ঘরে ফেরার আনন্দ ছিল যাত্রীদের চোখে-মুখে।

যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে বুধবার দুপুরে মাদারীপুর পুলিশ সুপার মো. সরোয়ার হোসেন প্রেস ব্রিফিং করে ঘাটে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করেন। ঘাট এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, র‌্যাব, পুলিশসহ আইন-শৃংখলা বাহিনী মোতায়েন থাকায় সুশৃংখলা পরিস্থিতি রয়েছে চোখে পড়ার মতো।

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শিমুলিয়া ঘাট হয়ে হাজার হাজার মানুষ পদ্মা পাড়ি দিয়ে কাঁওড়াকান্দি ও কাঁঠালবাড়ি ঘাট দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের নিজ নিজ গন্তব্যে ছুটছেন।

শিমুলিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি লঞ্চ, স্পিডবোটে যাত্রীদের ভিড় ছিল উল্লেখযোগ্য। লঞ্চ-স্পিডবোটের পাশাপাশি ফেরিতেও যাত্রীরা পদ্মা পার হচ্ছেন। অতিরিক্ত যাত্রী চাপ সামাল দিতে এ নৌরুটে ৮৭টি লঞ্চ, দুই শতাধিক স্পিডবোট ও ১৯টি ফেরি যাত্রীসেবায় নিয়োজিত রয়েছে বলে বিআইডব্লিউটিসি’র কাঁঠালবাড়ি ঘাট সূত্রে জানা গেছে। 

এদিকে কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে যাত্রী শুন্য ফেরৎ যাওয়ার অজুহাতে ঢাকা থেকেই প্রতিটি যানবাহনে দেড়গুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। শিমুলিয়া থেকে স্পিডবোটে আদায় করা হচ্ছে ১৩০ টাকার স্থলে ২০০ থেকে আড়াই শ' টাকা। লঞ্চে নেয়া হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। লঞ্চগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে পদ্মা নদী পার হতে দেখা গেছে। 

এদিকে যাত্রীরা নদী পার হয়ে এসে পরছেন বাড়তি ভাড়ার দৌরাত্ম্যে। কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া সকল যানবাহন বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। 

মাদারীপুরগামী যাত্রী নূরুল আলম বলেন, ‘শনিবার পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ঈদের আগেই রাজধানীর বেশির ভাগ মানুষ গ্রামের বাড়িতে ফিরে যায়। পরিবারের সবার সাথে ঈদের সময়টা কাটায়। আর এ সময় যাত্রাপথে ভীড় থাকবে; সেই সঙ্গে থাকবে ভোগান্তিও। সব কিছু মেনে নিয়ে নিরাপদে ঘরে পৌঁছাতে পারলেই খুশি।’

বাগেরহাটগামী যাত্রী আবু তালেব বলেন, ‘সকাল থেকেই সব জায়গায় প্রচন্ড ভিড়। লঞ্চে ধারণ ক্ষমতার অনেক বেশি যাত্রী ছিল। বিকেলের দিকে মানুষের চাপ আরো বাড়বে। প্রচণ্ড গরমে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা।’ 

কাঁঠালবাড়ি লঞ্চ ঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আক্তার হোসেন জানান, ‘ঈদের আগে লঞ্চে চাপ বেড়েছে শিমুলিয়া ঘাটে। আমরা কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে প্রায় যাত্রী শুন্য লঞ্চ ও স্পিডবোট শিমুলিয়া ঘাটের উদ্দেশে পাঠাচ্ছি। ওপাড় থেকে যাত্রী লোড করে এপাড়ে নামিয়ে দিয়েই খালি চলে যাচ্ছে শিমুলিয়া ঘাটে।  বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই যাত্রীরা ফিরতে শুরু করলেও লঞ্চে কোনো প্রকার অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ার সুযোগ নেই। নির্বিঘ্নেই যাত্রীরা ঘাটে এসে নামছেন। বিকেলের দিকে চাপ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যেও আনন্দ খুঁজে পাওয়া যায়।’ 

বিআইডব্লিউটিসি’র কাঁঠালবাড়ী ফেরি ঘাটের ব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, ‘কাঁঠালবাড়ি ঘাটে ফেরিতে তেমন চাপ নেই। ফলে অনেকটা পরিবহন শুন্য ফেরিগুলো শিমুলিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে কাঁঠালবাড়ী ছেড়ে যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে ফেরিতেও অধিক সংখ্যক যাত্রী পারাপার হচ্ছে।’

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরান আহমেদ জানান, ‘ঘরে ফেরা মানুষের চাপ বাড়ছে ক্রমান্বয়ে। শুক্রবার চাপ থাকবে আরো বেশি। যাত্রীদের নিরাপত্তায় সকল ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। র‌্যাব, পুলিশ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস, ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম সার্বক্ষণিক ঘাট এলাকায় রয়েছে। তাছাড়া কোনো পরিবহন যেন বাড়তি ভাড়া আদায় করে যাত্রীদের হয়রানি না করে সেদিকেও আমাদের কঠোর দৃষ্টি রয়েছে।’ 



মন্তব্য