kalerkantho


ঈদের আনন্দ নেই ফুলগাজীর বন্যাকবলিত গ্রামে

ফেনী প্রতিনিধি   

১৪ জুন, ২০১৮ ২১:৪৯



ঈদের আনন্দ নেই ফুলগাজীর বন্যাকবলিত গ্রামে

চারদিকে থৈ থৈ পানি। হাজার হাজার মানুষ আটকে আছেন পানিতে। কেউ কেউ চলে গেছেন স্বজনদের বাড়িতে। এবারের ঈদের আনন্দ নেই ফুলগাজীর বন্যা কবলিত গ্রামগুলোতে। এসব এলাকার ঈদগাহসমূহও এখন পানির নীচে। 

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনীর ফুলগাজী ব্রিজ পেরিয়ে কিছু দূর এগুলে দেখা যায়, ঘনিয়ামোড়া, পূর্ব ঘনিয়ামোড়া, পশ্চিম ঘনিয়ামোড়া, কিসমত ঘনিয়ামোড়া, জয়পুর গ্রাম কয়েক ফুট পানির নীচে। প্রতিটি বাড়িতে আটকে আছেন সবাই। কোথাও যেতে পারছেন না। অনেক পরিবার চলে গেছেন স্বজনদের বাড়িতে। নিজেদের ঘরগুলো পড়ে আছে অরক্ষিত। কেনা-কাটা বলতে কিছুই হয়নি বন্যা কবালিত মানুষগুলোর। 

এ ব্যাপারে ঘনিয়ামোড়ার আব্দুর রউফ প্রফেসর বাড়ি সড়কে বসবাস করা এক বাসিন্দা আব্দুল মজিদের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাত থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হলেও এসব গ্রামগুলোতে তখনও পানি প্রবেশ করেনি। কিন্তু বুধবার গভীর রাত থেকে পানির তোড়ে এসব গ্রাম ভেসে যায়। 

তিনি বলেন, ঈদের কেনাকাটা বলতে কিছুই হয়নি। শ্বাশুড়ি ওজুফা, স্ত্রী স্বপ্না আক্তার, মেয়ে লিজা আক্তার, লিপি আক্তার ও ছেলে রনিসহ ছয়জনের পরিবার। সবার মন খুব খারাপ। সবাই দুশ্চিন্তায় আক্রান্ত। কীভাবে সামনের দিনগুলো যাবে- কিছুই বুঝতে পারছেন না। 

আব্দুল মজিদ বলেন, কাছেই পশ্চিম ঘনিয়ামোড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ঈদগাহ। কিন্তু সেটা পানির নীচে থাকায় ঈদের জামাত নিয়েও আমরা চিন্তায় আছি।

একই এলাকার বসুমিয়া সওদাগর বাড়ির আবদুস সালাম স্থানীয় শ্রীপুর রোডের আশরাফিয়া মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। একই প্রতিষ্ঠানে পড়ছে রাশেদ ও মামুনুর রশিদ। তারা জানায়, এখনো কোনো জামা-কাপড় কেনা হয়নি। কেউ কোন খোঁজও নিতে আসেননি। তারা বলে, এবার ঈদের নামাজ কোথায় হবে সেটাই বুঝতে পারছি না। আমাদের মনে ঈদের কোনো আনন্দ নেই। কোমর পানিতে এদিক-ওদিক হাঁটছিল ওরা।  

এক সময় প্রবাসে ছিলেন শেখ মোজাম্মেল হোসেন স্বপন। এখন দেশেই আছেন। ফেনীতে ব্যাবসা করলেও নিয়মিত গ্রামেই থাকেন। তিনি বলেন, প্রতি বছরই আমরা এভাবে বন্যায় কষ্ট পাই। এর স্থায়ী সমাধান দরকার। 

তিনি আরো বলেন, গোটা এলাকা বন্যা কবলিত। এখনো কোনো জনপ্রতিনিধি বা নেতা সাহায্য নিয়ে আসেননি। 

এ ব্যাপারে পূর্ব ঘনিয়ামোড়ার শাহাবউদ্দিন অভিমান করে বলেন, এটাই আমাদের নিয়তি। আমাদের বাপ-দাদারাও বন্যায় কষ্ট করেছেন। আমরাও করছি। হয়তো আমাদের সন্তানদেরও এই কষ্ট মেনে নিতে হবে।


মন্তব্য