kalerkantho


মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদে ১৩টি ভাঙ্গন

২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী

আবদুল হামিদ মাহবুব, মৌলভীবাজার   

১৪ জুন, ২০১৮ ০৪:৫৩



মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদে ১৩টি ভাঙ্গন

কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মনু ও ধলাই নদের প্রতিরক্ষা বাঁধের ১৩ টি স্থান ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়ে মৌলভীবাজার জেলার ২টি উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়নের ব্যাপক অঞ্চল প্লাবিত করেছে। ডুবে গেছে ফসলের মাঠ, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি। অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

কুলাউড়া উপজেলায় টিলাগাঁও, শরিফপুর ও হাজীপুর ইউনিয়নের মনু নদের প্রতিরক্ষা বাঁধে ৫টি ভাঙ্গন ও কমলগঞ্জ উপজেলার কমলগঞ্জ পৌর এলাকা, মুন্সীবাজার ইউনিয়ন, আদমপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নে ধলাই নদের ৮টি ভাঙ্গন দিয়ে জনপদে বন্যার পানি প্রবেশ করছে। বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় অনেকেই নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

বন্যার পানিতে ডুবে থাকায় শমসেরনগর-চাতলাপুর ইমগ্রেশন চেকপোষ্ট সড়ক, মুন্সীবাজার-কমলগঞ্জ-কুরমা সড়ক ও শমশেরনগর-কুলাউড়া সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এসব সড়কের কোনো কোনো স্থান দেড় থেকে ৩ ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। মনুনদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে গত মঙ্গলবার রাতে থেকে কুলাউড়ার উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের বাঘজুর ও তেলিবিল গ্রাম এলাকায় ও গতকাল বুধবার সকালে চাতলাপুর সেতুর উত্তরপাশে ও দুপুরে হাজীপুর ইউনিয়নের মিঞারপাড়া এলাকায় নদীভাঙ্গনের ফলে পানি দ্রুত বেগে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত করে।

এইসব এলাকায় ১৫টি গ্রামের প্রায় ৬ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েন। শরীফপুরের বটতলা থেকে চাঁনপুর পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সড়ক ৩ ফুট পরিমাণ পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় এবং কুলাউড়া-শমশেরনগর সড়কে টিলাগাঁও এলাকা ও কুলাউড়া-শমশেরনগর-চাতলাপুর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মতিন, কুলাউড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বি শরীফপুর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শণ করেন।

কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জনাব আলী বলেন, গত মঙ্গলবার শবেকদরের রাত সাড়ে ৮টায় আমতলা বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন মনু নদের প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙ্গন শুরু হলে গ্রামবাসী ও বিজিবি সদস্যরা মিলে শতাধিক বস্তা বালু দিয়ে এ স্থান রক্ষা করেন। তবে রাত আড়াইটায় বাঘজুর ও তেলিবিল গ্রাম এলাকার প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে দ্রুত গতিতে নদের পানি প্রবেশ করে গ্রামের পর গ্রাম ডুবিয়ে দেয়। বাঘজুর, তেলিবিল, চাঁনপুর, খাম্বারঘাট, শরীফপুর, বটতলা, সঞ্জরপুর গ্রামের প্রায় ৪ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

কমলগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদের ভাঙ্গনে মুন্সীবাজার ইউনিয়ন ও কমলগঞ্জ পৌর এলাকায় শতাধিক কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। সহস্রাধিক হেক্টর আউশ ফসল পানিতে নিমজ্জ্বিত হয়েছে। কমলগঞ্জের ভানুগাছ বাজার সংলগ্ন, রামপাশা, আলেপুর এলাকায় আরো ৩টি স্থানে ধলাই নদের বাঁধ ঝুঁকির মুখে রয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কমলগঞ্জ পৌরসভা ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের ১২৫টি পানিবন্দী পরিবারের মাঝে জরুরি ভিত্তিতে ১০ কেজি করে জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে।

কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমদ বলেন, করিমপুর এলাকায় ধলাই নদের ভাঙ্গন দিয়ে পানি প্রবেশ করায় পৌর এলাকার গোপালনগর, করিমপুর, যুদ্ধাপুর ও নাগড়া গ্রামের তিনশত পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

মুন্সীবাজার ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালিব তরফদার জানান, ধলাই নদের ভাঙ্গনে বাদে করিমপুর ও সুরানন্দপুর এলাকায় সৃষ্ট ভাঙ্গনে প্রায় ৮০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ৫ শতাধিক হেক্টর আউশ ফসল পানিতে নিমজ্জ্বিত রয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক জানান, বুধবার সারাদিন বন্যা কবলিত এলাকগুলো পরিদর্শণ করেছি। করিমপুর এলাকার ধলাই নদের ভাঙ্গনটি প্রায় দেড়শ ফুট হবে। আপাতত বেশি ক্ষতিগ্রস্থ কয়েকটি এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরন করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে তাৎক্ষণিক বিতরণের জন্য কুলাউড়া উপজেলায় ৫০ টন, কমলগজ উপজেলায় ৪৫, রাজনগরে ১০ টন ও শ্রীমঙ্গলে ৫টন চাল বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়াও কুলাউড়া ও কমলগঞ্জে নগদ টাকা এক লাখ করে বরাদ্দ করা হয়েছে।

আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন জানান, ধরাই নদের একাধিক স্থানে ভাঙ্গনের ফলে ঘোড়ামারা, খেওয়ানিঘাট, কান্দিগাঁও, বন্দরগাঁও, মধ্যভাগ, হেরেঙ্গাবাজার গ্রামের প্রায় আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।



মন্তব্য