kalerkantho


পঞ্চগড়ে সরকারি আশ্রায়ন কেন্দ্রে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছে ২ হাজার পরিবার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ মে, ২০১৮ ১৫:৩১



পঞ্চগড়ে সরকারি আশ্রায়ন কেন্দ্রে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছে ২ হাজার পরিবার

জেলার ৫ উপজেলায় আদর্শগ্রাম-গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রায়ন প্রকল্পে ঠাঁই পেয়েছে আশ্রয় ও ভূমিহীন ২ হাজার পরিবার। মাথা গোঁজার ঠাঁই পাওয়ার পর সরকারিভাবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও ঋণ নিয়ে এখানকার পুনর্বাসিত পরিবারগুলো স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। পুকুরে মাছ চাষ, পুকুর পাড়ে ও ঘরের আশপাশে আবাদ করছে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজির। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও পাচ্ছে তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড় জেলার ৫ উপজেলায় ভূমিহীন নিরাশ্রয়দের আশ্রয় দেয়ার জন্য ৩৮টি প্রকল্প রয়েছে। আদর্শগ্রাম প্রকল্প-১ এর আওতায় ২৩টি আদর্শগ্রাম রয়েছে। এর মধ্যে জেলা সদরে ৫টি (মধুবন, তালমা, করতোয়া, মির্জাপুর ও হঠাৎপাড়া), দেবীগঞ্জে ১১টি (পেড়ালবাড়ী, উত্তরপাড়া, আরাজি সুন্দরদিঘী, ভাউলাগঞ্জ, ছলিমনগর, হাতীসিনা ও দুয়াইপুকুর, মাঝিয়ালী, গড়দীঘি ,কালুপীড় করতোয়া গুচ্ছগ্রাম), আটোয়ারীতে ৩টি (দুহসুহ, যুগিকাটা ও বার আউলিয়া), তেঁতুলিয়ায় ৩টি (শতদল, ডাহুক ও সীমান্ত এবং বোদায় ২টি (সলিমনগর ও পাথরাজ)। এ প্রকল্পে ৮শ ৩৭টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। গুচ্ছগ্রাম/আদর্শগ্রাম প্রকল্প-০২ এর আওতায় ৬টি গ্রাম রয়েছে। এর মধ্যে বোদা উপজেলায় ২টি (ভিমপুকুর ও মাড়েয়া কমলাপুকুরী), দেবীগঞ্জ উপজেলায় ২টি (গড়দিঘী ও করতোয়া) এবং আটোয়ারী উপজেলায় ২টি (দারখোর ও বুড়ারবন্দর)। এসব আদর্শ গ্রামে পুনর্বাসিত পরিবারের সংখ্যা ১শ ৫০টি। আশ্রায়ন-০২ প্রকল্পে রয়েছে ১২টি গ্রাম। এগুলোর মধ্যে সদর উপজেলায় রয়েছে ৪টি (ডুডুমারী, রাজারপাট ডাঙ্গা, পানিমাছ পুকুর ও হাড়িপুকুর), তেঁতুলিয়া উপজেলায় ২টি (বালাবাড়ি ও ঝালেংগীগছ), আটোয়ারী উপজেলায় ৩টি (লক্ষ্মিদাসী, পানবাড়া ও লতিঝাড়ি ধারিয়াখুড়ী), দেবীগঞ্জ উপজেলায় ৩টি মোস্তফাপুর ও উপেন চৌকি ভাজনী, দাড়ারহাট আশায়ণ) এবং বোদা উপজেলায় ১টি (বালাভীর আদিবাসী)। এসব আশ্র্রায়ন প্রকল্পে পুনর্বাসিত করা হয়েছে ৯শ ৪৫টি পরিবারকে।
পঞ্চগড় জেলা সদরের হাফিজাবাদ ইউনিয়নে অবস্থিত পানিমাছ পুকুরী আশ্রায়ন প্রকল্পে পুনর্বাসিত করা হয়েছে ৭৫টি পরিবারকে।
দেখা গেছে, অধিকাংশ পরিবারের পুরুষ সদস্যরা কাজের জন্য বাইরে গেছেন। দেখা হলো কয়েকজন বয়স্ক লোকের সাথে। তারা সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমাদের মত মানুষদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিয়েছে। পরিবার পরিজন নিয়ে টিনের ঘরে থাকতে পারছি। পুকুরে মাছ চাষ করতে পারছি। সরকারের ঋণ নিয়ে বিভিন্ন আয়বর্ধক কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছি। স্থানীয় একটি হাসকিং মিলের নৈশ প্রহরী আব্দুল হান্নান (৬৫) জানান, আমরা এখানে ৭৫টি পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছি। এখানে বিদ্যুৎ সুবিধা পেয়েছি।অনেক সরকারি সুযোগ সুবিধা পাচ্ছি। ভিজিডি-ভিজিএফ, ৪০ দিনের দিনের কর্মসূচিসহ সরকারের বিভিন্ন সহযোগিতা আমাদের জন্য অব্যাহত আছে। আমরা সমবায় সমিতি গঠন করেছি। মাসে ৫০ টাকা করে সঞ্চয় দেই। পুকুরে মাছ চাষ করছি। প্রতিবছর মাছ বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা পাই।
দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু তোরাব জানান, আমার ইউনিয়নে দুইটি আশ্রায়ন প্রকল্প রয়েছে। একটি উপেন চৌখি ভাজনী ও অপরটি হাড়িপুকুর মোস্তফাপুর আশ্রায়ন প্রকল্প। আমরা চেষ্টা করি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাদের সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য। তবে সবাইকে একসাথে সকল সুবিধা দেয়া সম্ভব নয়। পর্যায়ক্রমে সকলকে সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে।
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন, দেবীগঞ্জ উপজেলার উপেন চৌখি ভাজনী আশ্রায়নে ১৪ লাক্ষ টাকা মোস্তফাপুরে ১২ লাক্ষ টাকা এবং দাড়ারহাট আশ্রায়নে ১৪ লাক্ষ টাকা লোন বিতরন করা হয়েছে। এখানকার বিতরণকৃত লোন আদায় অত্যন্ত সন্তোষজনক।
ওমর ফারুক : দাড়ারহাট আশ্রায়ন প্রকল্পের ওমর ফারুক সমিতি থেকে লোন নিয়ে বয়লারের ব্যবসা শুরু করেন। ওমর ফারুক এখন স্বাবলম্বী। তিনি ব্যবসা করে একটি মহেন্দ্র ট্রাক্টর ও ৬টি বিদেশী গরুর খামার গড়ে তুলেছেন।
আঃ মজিদ : মোস্তফাপুর আশ্রায়নের আঃ মজিদ তিনিও সমিতির লোন নিয়ে আত্মনির্ভর হয়েছেন।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানান, পুনর্বাসিত পরিবারগুলোকে আমরা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছি। স্বাবলম্বী করার জন্য ঋণ দেয়া হচ্ছে। সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা যেমন ভিজিডি-ভিজিএফ, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ৪০ দিনের কর্মসূচিতে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যনদের নির্দেশ দেয়া আছে। প্রতিমাসে তাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সভা করি। বাসস



মন্তব্য