kalerkantho


মেহেরপুরে সেকমো’র অপচিকিৎসায় কিশোরের মৃত্যুর অভিযোগ

মেহেরপুর প্রতিনিধি   

২৭ মে, ২০১৮ ০১:২৬



মেহেরপুরে সেকমো’র অপচিকিৎসায় কিশোরের মৃত্যুর অভিযোগ

মেহেরপুরে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (সেকমো) মোমিনুর রহমানের অপচিকিৎসায় প্রাণ গেল মোহাম্মদ নয়ন (১৪) নামের এক কিশোরের। শনিবার দুপুর ২টার দিকে সদর উপজেলার বারাদিতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নয়ন একই উপজেলার রাজনগর ঘোড়া পাড়ার মোমিনুল ইসলামের ছেলে।

জানা গেছে, কিশোর নয়ন দীর্ঘদিন পেটের রোগে ভুগছিল। শুক্রবার রাতে হঠাৎ করে পেটের ব্যথা বেড়ে যায়। শনিবার সকালে তাকে তার পরিবারের লোকজন বারাদি বাজারের সেকমো চিকিৎসক মোমিনুর রহমানের কাছে নিয়ে যায়। সেকমো মোমিনুর রহমান গ্যাষ্ট্রিকের সমস্যা বলে শরীরে স্যালাইন পুশ করে। পাশাপাশি ভিসেট ও রেনিডিন নামের চারটি ইনজেকশন করেন। 

তাৎক্ষণিকভাবে রোগী সুস্থ হয়ে গেলে তাকে বাড়িতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে দুপুর ১২টার দিকে রোগীর পাতলা পায়খানা শুরু হয়। এক পর্যায়ে কিশোর নয়ন নিথর হয়ে যায়। দুপুর দেড়টার দিকে পুনরায় মোমিনুরের চেম্বারে নিয়ে গেলে সে রোগীকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিবিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পিতা মোমিনুল ইসলাম ময়না জানান, ছেলেকে গ্যাস্ট্রিকের সমস্য বলে মোমিনুর ডাক্তার স্যালাইন দিয়েছে। স্যালাইনের সঙ্গে দুটি আর হাতে দুটি মোট চারটি ইনজেকশন করেছে। ছেলে একটু পরেই সুস্থ হয়ে গেলে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসি। দুপুরের পর থেকে বারবার পাতলা পায়খানা শুরু হলে ডাক্তারকে ফোন দেই। ডাক্তার স্যালাইন খাওয়াতে বলে। এক পর্যায়ে ছেলে চুপ মেরে গেলে তাকে আবার ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। ডাক্তার দেখে বলে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিতে। কিন্তু তার আগেই মনে হচ্ছিল আমার ছেলে মারা গেছে। ওই ডাক্তার আমার ছেলেকে মেরে ফেলল। আমি কার কাছে বিচার দেব? 

অভিযুক্ত চিকিৎসকের চেম্বার মেহেরপুর সদর উপজেলার বারাদি বাজারের সেবা মেডিকেল অ্যান্ড ফার্মেসিতে গিয়ে দেখা যায় প্যারামেডিক পাস করা মোমিনুর রহমান নিজেকে প্যাড এবং ভিজিটিং কার্ডে ডাক্তার লিখে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়াও তিনি আমঝুপি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে উপসহকারী মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অভিযুক্ত চিকিৎসক জানান, কিশোর নয়ন তার পুরাতন রোগী।

এভাবেই সে অসুস্থ হলে তাকে সে সুস্থ করে তোলে।এবারও গ্যাষ্ট্রিকের সমস্যা নিয়ে আসলে তাকে প্রাথমিকভাবে গ্যাষ্ট্রিকের চিকিৎসা দেওয়া হয়। স্যালাইনের সাথে দুটি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। তাকে সুস্থ করে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে তার ডিহাইড্রেশন হলে তখন আমি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত থাকায় চিকিৎসা দিতে পারিনি। সেখান থেকে আসার পর মনে হলো অবস্থা ভালো না তখন তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রোগী আপনার চেম্বারে আসার আগেই মারা গিয়েছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি তাকে জীবিত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠিয়েছিলাম। 

বারাদি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বাবলু মিয়া জানান, নিহতের পরিবার বা কেউ অভিযোগ করলে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাকে পুলিশের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। 



মন্তব্য