kalerkantho


বান্দরবানে গ্রামীণ সড়কগুলোর বেহাল দশা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান   

২৬ মে, ২০১৮ ১৭:১১



বান্দরবানে গ্রামীণ সড়কগুলোর বেহাল দশা

বান্দরবানে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নির্মিত গ্রামীণ সড়কগুলো মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিতেই ভাঙতে শুরু করেছে। অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদার-পিআইও-জনপ্রতিনিধি ত্রিমুখী যোগসাজশে অপরিকল্পিত ও  নিম্নমানের কাজ করায় সড়কগুলো নির্মাণের এক মাস না পেরুতেই ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। 

গতকাল শুক্রবার বান্দরবান সদর উপজেলার কুহলং ইউনিয়নের ভরাখালি-মুসলিম পাড়া এইচবিবি  (হেরিন বোন বন্ড) সড়কে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের কয়েকটি স্থানে ব্যাপক ভাঙ্গন ধরেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কোনো ধরনের তদারকি না থাকায় ঠিকাদাররা স্বেচ্ছাচারিতা করে মাটির ওপর বালির স্তর না দিয়ে ইট বিছানোর কারণে ইটগুলো সরে গিয়ে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে।  

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে গ্রেড রক্ষা না করা, পাহাড়ি ছড়ায় কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা দেয়াল না দেওয়া এবং পানি নিষ্কাষণের সুযোগ না রেখে পাহাড়ের ঢালের নালাগুলোর ওপর ইট বিছিয়ে দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।

মুসলিম পাড়ার বাসিন্দা ইসমাঈল আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি পিআইও রাস্তা কিনা আমরা জানি না। ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ও উপ-ঠিকাদার কালাম আমাদের বলেছেন, একটি এনজিওর টাকায় এই রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কুহলং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সানু প্রুর বাড়ির সামনে দিয়ে খাড়া পাহাড়ের দিকে রাস্তাটি উঠে গেছে। ফলে বৃষ্টির সময় পাহাড় থেকে নেমে আসা পানি রাস্তার ওপর দিয়েই গড়াচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সানু প্রু মারমা মিডিয়ার সাথে কথা বলতে রাজী নন। পরে অনেক পীড়াপীড়ির পর মোবাইলে কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, সাংবাদিকদেও জ্বালায় কোনও উন্নয়ন কাজ করা যাচ্ছে না। 

তিনি বলেন, সিকিউরিটি হিসেবে ঠিকাদারি বিলের ‘টেন পার্সেন্ট’ জমা রাখা হয়েছে। রাস্তা ভাঙ্গলে তা আবার ঠিকাদারকে দিয়েই মেরামত কাজ করিয়ে নেওয়া হবে।

তবে অনেক চেষ্টা করেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক আবু তাহেরের সাথে কথা বলা যায়নি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বান্দরবান সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর জানান, গ্লোবাল কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩৭ লাখ টাকায় এই এইচবিবি সড়কের নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করেছেন।

পিআইও জানান, সড়ক নির্মাণ কাজ চলার সময় তিনি বেশ কয়েকবার ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ কারণে কাজটি খুব ভালো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মোহাম্মদ আলমগীর জানান, তিনি একাই বান্দরবান সদর, থানচি এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় পিআইও’র দায়িত্ব পালন করছেন। কাজ তদারকিতে তিনি খুবই আন্তরিক।

একই ব্যক্তির পক্ষে জেলার তিন প্রান্তের তিনটি উপজেলায় সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন সম্ভব কিনা- জানতে চাইলে পিআইও আলমগীর বলেন, কাজগুলোকে ভালো মানের রাখতে আমি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি।

ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান জেলার ৭টি উপজেলায় এ ধরনের ২৮টি সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে সাড়ে ১০ কোটি টাকা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন প্রকৌশলী জানান, পিআইও অফিসে কোনও টেকনিক্যাল লোক নেই। ফলে তদারকির অভাবে ব্রিজ ও গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে গুণগত মান রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে না।



মন্তব্য