kalerkantho


বাংলাবান্ধায় বিভক্ত কুলি শ্রমিকরা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

২৬ মে, ২০১৮ ১৬:০০



বাংলাবান্ধায় বিভক্ত কুলি শ্রমিকরা

বাংলাবান্ধায় ইজারাদারের শ্রমিক নিয়োগ নিয়ে স্থলবন্দর কুলি শ্রমিকরা বিভক্ত হয়ে পড়েছে। কুলি শ্রমিকদের একটি বড় অংশ দাবি করছেন শ্রমিক নেতারা ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের সাথে জোগসাজস্যে শ্রমিক নিয়োগের চেষ্টা করছেন।

এ ছাড়া বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর কুলি শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচিত ৮ সদস্যের কমিটির বিরুদ্ধে প্রায় ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে তাদের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছে শ্রমিকদের বড় অংশটি। এই গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইউসুফ আলী। সংগঠনের মোট ১৫৪ জন সদস্যের মধ্যে ১২৬ জন এই রয়েছে এই গ্রুপে। 

শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর কুলি শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের প্রায় ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও কমিটির সভাপতি আকতারুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান সমিতির সদস্যদের আয় ব্যয়ের কোনো হিসাবই দেন নি। প্রতিদিন ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে আসা ৩ থেকে সাড়ে ৩’শ ট্রাক আসে। ট্রাক প্রতি শ্রমিক ইউনিয়ন ৩০ টাকা করে চাঁদা দেয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে ভারত ও নেপালগামী প্রতিটি পণ্যবাহী যানবাহন থেকেও একই পরিমাণ টাকা আদায় করা হয়। এভাবে গত ৯ মাসে শ্রমিক ইউনিয়নের আয় হয়েছে ২৫ লাখ টাকারও বেশি। কিন্তু আয়ের কোনো টাকাই শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় না করে পুরোটাই আত্মসাত করা হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

এ ছাড়া নির্বাচিত শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের স্বার্থ পরিপন্থি কাজেরও অভিযোগ তোলেন তারা। তাদের অভিযোগ শ্রমিক নেতারা টাকার বিনিময়ে ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধিত শ্রমিক হিসেবে নিজেদের পছন্দ মতো ব্যক্তিদের নির্বাচিত করছেন। তাই গত ২৫ মে নির্বাচিত ওই ৮ সদস্যের উপর অনাস্থা প্রস্তাব এনে রেজুলেশনের মাধ্যমে ১২৬ জন শ্রমিক মিলে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন। আহ্বায়ক করা হয় ওই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইউসুফ আলীকে।

পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অন্যরা হলেন, যুগ্ম আহ্বায়ক সোহরাব হোসেন, সদস্য আইবুল ইসলাম, আবুল কালাম, শুক্কুর আলী। 

আহ্বয়ক কমিটির আহ্বায়ক ইউসুফ আলী জানান, গঠনতন্ত্রের ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কমিটির সদস্যরা শ্রমিকদের স্বার্থ পরিপন্থি কাজ করায় শ্রমিকরা তাদের ওপর অনাস্থা প্রস্তাব এনে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সদস্যরা যে ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে তা শ্রমিকদের বুঝে দিতে না পারলে আমরা আইনের আশ্রয় নিবো। 

এ বিষয়ে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর কুলি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি নির্বাচিত কমিটিকে ইচ্ছে করলেই তো আর অনাস্থা এনে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা যায় না। এর জন্য গঠনতন্ত্র রয়েছে। কোনো অভিযোগ থাকলে রাজশাহী শ্রম অধিদপ্তর থেকে তদন্ত হওয়ার পর তারা ব্যবস্থা নিবে। অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে শ্রমিকরা যে অভিযোগ করেছে তা প্রমাণ করে দিতে বলেন।



মন্তব্য