kalerkantho


সৈয়দপুরে যৌতুকের জন্য অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পাশবিক নির্যাতন

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি   

২৩ মে, ২০১৮ ২২:১৪



সৈয়দপুরে যৌতুকের জন্য অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পাশবিক নির্যাতন

যৌতুকের জন্য এক স্বামীর বিরুদ্ধে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পাশবিক নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ওই গৃহবধূর চার মাসের গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি নীলফামারীর সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আজ বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বামীর শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে গর্ভের সন্তান হারিয়ে মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় ওই হাসপাতালের ২৬ নম্বর বেডে শুয়ে আছেন গৃহবধূ আয়শা বেগম। এ সময় তাঁর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, তাদের বাড়ি নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামের দেওয়ানীপাড়ায়। তাঁর বাবা রহিদুল ইসলাম ও মা ফাতেমা বেগম হতদরিদ্র মানুষ। বাবা একজন রাজমিস্ত্রির যোগালী আর মা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। বাবা-মা দিন রাত চব্বিশ ঘণ্টা হাঁড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে তাকে ৫ ভাই-বোনদের বড় করেন। তাঁর বিয়ের জন্য খেয়ে না খেয়ে অনেক কষ্ট করে ৫০ হাজার টাকা যোগাড়ও করেন। এরপর নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার পূর্ব কাঠালী গ্রামের মাষ্টারপাড়ায় মৃত মজরতুল্লাহর ছেলে মো. শফিকুল ইসলামের সঙ্গে গত ২০১৭ সালের ২৪ নভেম্বর বিয়ে দেন। সে সময় যৌতুক ছাড়াও বাবা-মা আমার সুখের জন্য তৈজসপত্রসহ সংসারের অনেক কিছুই দেয় আমাকে।

গৃহবধূ আয়শা জানায়, বিয়ের সময় তাঁর স্বামী শফিকুল প্রতারণার আশ্রয় নেয়। এর আগেও সে একাধিক বিয়ে করেছিল। আগের স্ত্রীদের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের যৌতুক নিয়ে তাদের ওপর নির্মম অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেয়। তারপরও স্বামীর ঘর সংসারে মনোনিবেশ করেন তিনি। 

জানা গেছে, বিয়ের অল্প কিছু দিনের মধ্যে যৌতুকলোভী শফিকুল ইসলমের আসল চেহারা বেরিয়ে আসে। যৌতুকের জন্য নববধূর ওপর শারীরিক অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করেন। স্বামীর শত অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করে স্বামীর বাড়িতে পড়ে থাকে আয়শা। কারণ তিনি জানেন, তাঁর হতদরিদ্র বাবা-মায়ের সামর্থ্য নেই জামাইকে আরো যৌতুকের টাকা দেওয়ার। এ অবস্থায় চার মাসের অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়ে আয়শা বেগম। 

এও জানা গেছে, যৌতুকলোভী শফিকুল আগের স্ত্রীদের মতো আয়শাকেও তাড়াতে কারণে অকারণে তাঁর ওপর নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালাতে থাকে। গত ১২মে সকালে যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রী আয়শা বেগমকে বেদম মারপিট করে। এ সময় তার তলপেটেও সজোরে আঘাত করে স্বামী শফিকুল। এতে কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়ে আয়শা। তারপরও তাকে এক কাপড়ে স্বামীর বাড়ি থেকে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় স্বামীর হাতে-পায়ে ধরে অনেক কান্নাকাটি করে আয়শা। কিন্তু গৃহবধূ আয়েশার আকুতি মিনতি কোন কিছুই পাষণ্ড স্বামী শফিকুলের মন গলাতে পারেনি। 

অনেকটা নিরুপায় হয়ে স্বামীর বাড়িতে আশ্রয় না পেয়ে অসহায় আয়শা বেগম বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। এখানে আসার পর তাঁর পেটে অসহ্য ব্যথা শুরু হয়। ক্রমেই তাঁর পেটের ব্যাথা বাড়তে থাকে। এর এক পর্যায়ে তাঁর প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হলে গত ২১ মে তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি) ডা. মোছা. মুনমুন বেগম জানান, গৃহবধূ আয়শা বেগমের অসম্পূর্ণ গর্ভপাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে তার আলট্রাসনোগ্রাম করেও একই ফলাফল মিলেছে।

আজ বুধবার বিকেলে এ ব্যাপারে আয়শা বেগমের মা ফাতেমার বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে  তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, তাঁর স্বামীরও বয়স হয়েছে। আগের মতো আর কাজকর্ম করতে পারেন না। তাদের অভাবী সংসারে অনেক ধারদেনা করে মেয়েটিকে বিয়ে দিয়েছেন। মেয়ে সুখের জন্য জামাইকে অনেক নগদ অর্থসহ অনেক উপঢৌকন দিয়েছি। তারপরও জামাইয়ের মন ভরাতে পারিনি। এখন ফের জামাই যৌতুক দাবি করে মারপিট করে মেয়েকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। এখন কোথা থেকে  টাকা সংগ্রহ করে জামাইকে দিব?  মেয়েকে বাড়িতে রাখব এমন সামর্থ্য নেই। যৌতুকলোভী প্রতারক জামাইয়ের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেবেন বলে জানান তিনি।



মন্তব্য