kalerkantho


উদ্বোধন হবে স্মৃতিস্তম্ভ

আজ কাহারোলের সিংগারীগাঁ গণহত্যা দিবস

দিনাজপুর প্রতিনিধি    

২৩ মে, ২০১৮ ১১:১৮



আজ কাহারোলের সিংগারীগাঁ গণহত্যা দিবস

আজ ২৩ মে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সিংগারীগাঁ গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি বর্বর বাহিনী দুই শতাধিক মানুষকে গুলি করে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম দিবসটি পালিত হবে।

দিনাজপুর ১ (বীরগঞ্জ-কাহালোর) আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালের প্রচেষ্টায় ঘটনাস্থলে নির্মিত হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ। দিবসটি উপলক্ষে আজ বুধবার তা উদ্বোধন করা হবে।

দিনাজপুর জেলা কৃষক লীগেন সহ-সভাপতি ও কাহারোল উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্রী গোপেশ চন্দ্র রায় বলেন, ১৯৭১ সালের ২২ মে সিংগারীগাঁ, তারাপুর, দেড়গাঁও, পাহাড়পুরসহ বিভিন্ন স্থানের পাঁচ শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু ভারতে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বোচাগঞ্জ উপজেলার টাঙ্গন নদী পার হয়ে চাঁদগাঁও সীমান্তের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় রাজাকার শফিউদ্দিন মেম্বার পাক সেনাদের খবর দিলে খান সেনারা তাদেরকে ধরে নিয়ে গিয়ে একটি স্কুলে বন্দি করে রাখে। পরের দিন ২৩ মে পাক সেনারা শিশু ও নারীদের ছেড়ে দিয়ে প্রায় দুই শতাধিক কিশোর, তরুণ-যুবক ও পুরুষকে গুলি করে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে।

২০১২ সালে সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি তার বিশেষ বরাদ্দ থেকে জেলা পরিষদের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে ঘটনাস্থলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজ শুরু করেন, যা আজ বুধবার সকাল ১১টায়  উদ্বোধন করা হবে।

এ ব্যাপরে জানতে চাইলে ঘটনাটি নিয়ে গবেষণারত দিনাজপুর আদর্শ কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক রুবি আফরোজ বলেন, '৭১ সালের ২২ মে কিশোর, তরুণ-তরুণী- যুবক ও পুরুষকে ভারতে যাওয়ার সময় আটক করে একটি স্কুলে আটক করে রাখে পাক সেনারা। তারা ২৩ মে দুই লাইনে দাঁড় করিয়ে নারীদের ছেড়ে দিয়ে পুরুষদের ধরে নিয়ে যায়। পরে তাদের আর কোনো খবর পাননি পরিবারের সদস্যরা। ধারণা করা হয় তাদেরকে টাঙ্গন নদীর দমনী ঘাটে নিয়ে হত্যা  করে লাশগুলো পুঁতে ফেলে অথবা নদীতে ভাসিয়ে দেয়।

সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল বলেন, 'স্বাধীনতার পর থেকে অনেকে ক্ষমতায় এসেছেন। কিন্তু কেউ বিষয়টি নিয়ে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। আমি ২০১২ সালে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে জেলা পরিষদের মাধ্যমে সিংগারীগাঁ গণকবর স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজ শুরু করি, যা আজ বুধবার উদ্বোধন করা হবে।

মনোরঞ্জন শীল আরো বলেন, সে সময় দুই শতাধিক মানুষ গণহত্যার শিকার হলেও ৬৫ জনের মান এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে। বাকিদের নাম ঠিকানা সংগ্রহের কাজ চলছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইমাম চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো.  হামিদুল আলম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিম আহমেদ, সেক্টর কমান্ডার ফরামের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম ফারুক, সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান চৌধুরী, বিশিষ্ট সাংবাদিক  চিত্ত ঘোষ এবং কাহারোল উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন তারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম।


মন্তব্য