kalerkantho


বান্দরবানে পাহাড়ে তুলা চাষের উন্নয়ন ও অভিযোজন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান    

২২ মে, ২০১৮ ২১:৫০



বান্দরবানে পাহাড়ে তুলা চাষের উন্নয়ন ও অভিযোজন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ের ঢালে প্রচলিত জুম চাষের সাথে তুলা ও ভুট্টা চাষ প্রবর্তন, চাষ উন্নয়ন ও অভিযোজন বিষয়ে বান্দরবানে দিনব্যাপী এক অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বান্দরবান শহরের বালাঘাটায় তুলা গবেষণা কেন্দ্রে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
 
বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ড এবং কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে। 
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও কৃষি ব্যক্তিত্ব ড. আবদুল হামিদ।

বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক ড. ফরিদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মুকুল চন্দ্র রায়, জুম চাষের সাথে তুলা ও ভুট্টা চাষ প্রবর্তন, উন্নয়ন ও অভিযোজন প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়ক ড. নুরুল আলম, কৃষি বিজ্ঞানী মোহিবুল হাসান বুলবুল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বান্দরবানস্থ উপ-পরিচালক আলতাফ হোসেন। 

কর্মশালায় স্বাগত ভাষণ দেন বান্দরবান তুলা গবেষণা কেন্দ্রের ইনচার্য ও উর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মংসানু মারমা। এতে দুইটি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট মৃত্তিকা বিজ্ঞানী ড. আবদুল গফুর এবং ড. কামরুল ইসলাম। 

কর্মশালায় প্রধান অতিথির ভাষণে ড. আবদুল হামিদ বলেন, পাহাড় এলাকায় কৃষিতে সার্বিক উন্নয়ন ঘটাতে হলে পাহাড় এবং পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষকে আগে ভালোবাসতে হবে।

মুকুল চন্দ্র রায় বলেন, স্থানীয় মানুষের আদি জ্ঞানকে (ইনডিজেনাস নলেজ) সম্পৃক্ত করে লাগসহ পরিকল্পনাই হচ্ছে গবেষণার পূর্ব শর্ত। গবেষকদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, নিজেদের মনগড়া মতামত সম্বলিত কোনও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে তা বেশি দিন টিকে না।

কর্মশালায় জানানো হয়, পাহাড়ি এলাকার ঢালু জমিতে বিদ্যমান সনাতনী জুম পদ্ধতিতে ধান চাষের সাথে সার্থী ফসল হিসেবে তুলা এবং ভুট্টা চাষ করে বাড়তি খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েই মাঠ পর্যায়ে জরিপ কাজ চলছে। 

এ ব্যাপারে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক ড. ফরিদ উদ্দিন জানান, বর্তমানে দেশে বার্ষিক ৭২ থেকে ৭৫ লাখ বেল তুলার চাহিদা রয়েছে। কিন্তু দেশে উৎপাদিত তুলার পরিমাণ ২ লাখ বেলের কম। ফলে চাহিদা মিটাতে প্রতি বছর ৭০ লাখ বেল তুলা আমদানি করতে হয়। পাহাড়ি এলাকায় তুলা চাষ বাড়ানো গেলে তুলা আমদানির ওপর চাপ কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। 



মন্তব্য