kalerkantho


নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে পাহাড় ধস

দুইজনকে জীবিত ও এক নারী শ্রমিকসহ তিন মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান    

২১ মে, ২০১৮ ২৩:০০



দুইজনকে জীবিত ও এক নারী শ্রমিকসহ তিন মরদেহ উদ্ধার

ছবি: কালের কণ্ঠ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনায় দুইজনকে জীবিত এবং এক নারীসহ তিন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম সারোয়ার আলম সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

আজ সোমবার ২১ মে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে ঘুমধুম ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডভুক্ত বরইতলির মনজয় পাড়া গ্রামে পাহাড় ধসের এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ৫ শ্রমিক পাহাড় চাপা পড়লেও ঘটনার ১৫ মিনিটের মধ্যে স্থানীয় জনগণ নূর মোহাম্মদ নামে এক শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। সন্ধ্যে সাড়ে ৭টার দিকে গভীর মাটি খুঁড়ে নুরুল হাকিম নামে আরো এক শ্রমিককে উদ্ধার কর্মীরা অনেকটা সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেছে। তারা দু’জনেই বর্তমানে কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সারোয়ার কামাল জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনার পর পুলিশ, বিজিবি ও স্থানীয় জনগণকে নিয়ে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে। টানা ৮ ঘণ্টা অভিযান শেষে রাত সাড়ে ৮টায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

গত বছর এ সময়ে পাহাড় ধসে বান্দরবান জেলায় ১৩ জনের মৃত্যু ঘটে। তবে ভর মওসুম শুরু হবার আগেই পাহাড় ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটলো।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রুপায়ন বড়ুয়া নামে এক ব্যক্তির মাছের খামারের পানি নিষ্কাশনের জন্যে পাহাড়ের ঢাল কেটে ৫ জন শ্রমিক নর্দমা নির্মাণের কাজ করছিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ করে পাশের পাহাড়ের একটি অংশ তাদের ওপর পড়লে শ্রমিকরা মাটির নিচে চাপা পড়ে।

সূত্র জানায়, ৩ বছর আগে দু’টি পাহাড়ের মাঝে মাটির বাঁধ দিয়ে ওই মৎস্য খামার প্রতিষ্ঠা করেন রূপায়ন বড়ুয়া।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মোহাম্মদ আলমগীর শেখ জানান, উপজেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে হলেও সড়ক পথে ঘটনাস্থল মনজয় পাড়ায় যেতে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর থেকে সড়ক পথে কক্সবাজার, রামু ও উখিয়া হয়ে প্রায় ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিতে হয়। ফলে দুর্গম এলাকাটিতে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধার কর্মীরা পৌঁছুতে বেশ বেগ পেতে হয়।

নিহতরা হলেন- আবু আহমেদ (৩০), মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন (২৫) ও সোনামেহের বেগম (৩৫)। 
স্থানীয় ইউপি সদস্য ক্যানেরাও চাকমা জানান, নিখোঁজ ও আহতরা সবাই ঘুমধুম ইউনিয়নের বরইতলি এলাকার বাসিন্দা। দিনমজুরি করে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন।

এদিকে মাটি চাপা পড়ে তিন শ্রমিকের মৃত্যুতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।



মন্তব্য