kalerkantho


জয়দেবপুর-ধীরাশ্রম-টঙ্গী

সড়কে হাঁ করে আছে বড় গর্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২১ মে, ২০১৮ ১৬:৫৯



সড়কে হাঁ করে আছে বড় গর্ত

জয়দেবপুর-ধীরাশ্রম-টঙ্গী সড়কে হাঁ করে আছে এ রকম বড় বড় গর্ত। ছবিটি নগরীর দক্ষিণখান এলাকা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

গাজীপুর মহানগরীর জয়দেবপুর-ধীরাশ্রম-টঙ্গী সড়কটি ভেঙে খানখান হয়ে গেছে। জয়দেবপুর শহর থেকে টঙ্গীর বনমালা লেভেলক্রসিং পর্যন্ত আট কিলোমিটার সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

সড়কে ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কার্পেটিং উঠে বড় বড় গর্ত হাঁ করে আছে। আবার কোথাও সরু হয়ে আছে সড়ক। ভাঙা সড়ক দিয়ে হেলেদুলে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। কোথাও গর্তে পড়ে আটকে আছে গাড়ি। গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির এ অবস্থা হওয়ায় ক্ষুব্ধ যাত্রীসহ স্থানীয় লোকজন।

গাজীপুরে কর্মরত একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অচল হয়ে যাওয়ার পর এক বছর ধরে সড়কটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। দিন দিন গাড়ির চাপও বাড়তে থাকে। দীর্ঘদিন মেরামত না করা ও অতিরিক্ত গাড়ির চাপে সড়কটি গত কয়েক মাস আগে ভাঙতে শুরু করে। এ বছর বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে বেহাল হয়েছে সড়কটি। বিশেষ করে ছোট দেওড়া, তরৎপাড়া, ধীরাশ্রম, দক্ষিণখান হায়দরাবাদ, সুকুন্দির বাগ, মাউরার টেকসহ বিভিন্ন স্থানের অবস্থা খুবই করুণ।  

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চাপ কমাতে সিটি করপোরেশন নগরীর ভানুয়া থেকে জয়দেবপুর-ধীরাশ্রম-টঙ্গীর বনমালা লেভেলক্রসিং পর্যন্ত ১৫ দশমিক ২৫৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৭ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থের এ সড়কের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। জাপানের ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেটিভ এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে ৩২ কোটি ৮৩ লাখ ৪২ হাজার টাকার কাজটি দরপত্রের মাধ্যমে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চলতি বছরের ১০ নভেম্বর কাজ শেষ করার কথা থাকলেও গত ছয় মাসে কাজ হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। তা ছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলার কারণে রাস্তাটি আরো ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কাজের গতি মন্থর থাকায় নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ হওয়ার ব্যাপারেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সড়কে চলাচলকারী লেগুনাচালক বিল্লাল মিয়া ও হায়দরাবাদ এলাকার বাসিন্দা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঠিকাদার কয়েকটি স্থানে খোঁড়াখুঁড়ি করে কাজ ফেলে রাখায় বৃষ্টির পানি জমে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে সলিং উঠে সরু হয়ে গেছে। যানবাহনের অত্যধিক চাপ থাকা এবং কিছুদিন ধরে অব্যাহত বৃষ্টির কারণে সড়কটির বর্তমান অবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে। ফলে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন যানবাহন চলছে। কোথাও কোথাও এসব গর্তে গাড়ি ফেঁসে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে যাত্রীসাধারণ ছাড়াও এলাকাবাসীদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বলা যায়, এ অবস্থা চলতে থাকলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে সড়কটি যানবাহনের চলাচলে সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়বে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রতিদিন মারাত্মক যানজট লেগে থাকায় বিকল্প হিসেবে মন্ত্রী, এমপি ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা টঙ্গী হয়ে ঢাকায় যেতে ভিআইপি রোড হিসেবে এ সড়ক ব্যবহার করে থাকেন।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. রফিকুজ্জামান জানান, গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ভিআইপি রোড হিসেবে পরিচিত। সড়কটির উন্নয়নকাজে অত্যন্ত ধীরগতি থাকায় বৃষ্টির পানিতে এর অবস্থা বর্তমানে খুবই নাজুক। এলাকাবাসীর চলাচলের স্বার্থে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মজিবুর রহমান কাজল জানান, বৃষ্টির কারণে ধীরগতিতে সড়কের কাজ চলছে। তবে সড়কটির দুরবস্থার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, দ্রুত সড়কটির উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তিন-চারবার লিখিতভাবে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।



মন্তব্য