kalerkantho


মেহেরপুরে পল্লী চিকিৎসকের অপচিকিৎসায় তরুণের মৃত্যু

মেহেরপুর প্রতিনিধি   

১৭ মে, ২০১৮ ২২:৩৩



মেহেরপুরে পল্লী চিকিৎসকের অপচিকিৎসায় তরুণের মৃত্যু

মেহেরপুরে ফকরুজ্জামান নামের এক পল্লী চিকিৎসকের অপচিকিৎসায় প্রাণ গেল সাইদুর রহমান (১৮) নামে এক তরুণের। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার আলমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে এ ঘটনার পর থেকে পল্লী চিকিৎসক ফকরুজ্জামান ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন। 

নিহত সাইদুর রহমান গাংনী উপজেলার গাঁড়াডোব গ্রামের কৃষক সানোয়ার হোসেনের ছেলে।  

নিহতের পিতা সানোয়ার হোসেন জানান, তাঁর ছেলে সাইদুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে নাকের পলিপাস রোগে ভুগছিল। পাশের গ্রাম আলমপুরে পল্লী চিকিৎসক ফকরুজ্জামান তার ছেলে পলিপাসের অপারেশন করে ভাল করে দিবেন বলে তিন হাজার পাঁচশ টাকায় চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী ঘটনার দিন সকালে চুক্তির তিন হাজার পাঁচশ টাকা পরিশোধ করেন। এ সময় ছেলের অপারেশনের জন্য ফকরুজ্জামান আমাদের বাইরে বসতে বলে ছেলেকে অপারেশন করার জন্য একটি রুমে ঢোকান। অনেকক্ষণ ধরে বাইরে বের না হলে আমরা ডাকাডাকি শুরু করি। এক সময় ছেলে চিৎকার দিয়ে উঠে। তার পরপরই ফকরুজ্জামান আমাদের বলে ছেলের রক্ত কম আছে হাসপাতালে নিতে হবে। মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার বলে ছেলে বেঁচে নেই। এ সময় ফকরুজ্জামান নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য একই হাসপাতালের বিভিন্ন ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করেন। 

এদিকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পল্লী চিকিৎসক ফকরুজ্জামান বলেন, আমি অপারেশন করিনি। গাংনী থেকে রিপন নামের এক ডাক্তার এই অপারেশ করেছেন। সে কি এমবিবিএস চিকিৎসক এমন প্রশ্নে জবাব না দিয়ে তিনি হাসপাতাল থেকে কৌশলে পালিয়ে যায়। 

এ ঘটনার পর খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল হাসপাতাল ও ফকরুজ্জামানের চেম্বার কাম বাড়িতে যান। কিন্তু ফকরুজ্জামানসহ পরিবারের অন্যরা আত্মগোপনে থাকায় পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। 

এ ব্যাপারে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহিদুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে ভর্তি করার পূর্বেই সাইদুরের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তার নাক দিয়ে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণের কারণেই মৃত্যু হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বাকিটা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরিস্কার হওয়া যাবে।  

এ বিষয়ে মেহেরপুর সদর থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় পল্লী চিকিৎসক ফকরুজ্জামানকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা হয়েছে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। 

এদিকে অভিযুক্ত ফকরুজ্জামানের প্রসঙ্গে গ্রামের বিভিন্ন জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় বিশ থেকে বাইশ বছর ধরে তিনি এই ধরনের অবৈধ চিকিৎসা করে যাচ্ছেন। চিকিৎসা করে তিনি দ্বিতীয় তলা ভবন তৈরি করেছেন। গত এক বছরে তাঁর অপচিকিৎসায় এই নিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সাত মাস আগে সদর উপজেলার খোকসা গ্রামের ইয়াসিন ফকির নামের এক ক্যান্সার রোগীর পায়ে ক্ষত সৃষ্টি হলে ফকরুজ্জামান করাত দিয়ে পা কেটে অপারেশ করেন। এর কিছুদিন পর ওই রোগীর মৃত্যু হয়। গাংনী উপজেলার গাড়াডোব গ্রামে সান্তনা নামের এক গৃহবধূ বিষপান করলে তার চিকিৎসালয়ে তিন দিন ধরে চিকিৎসা দেন। কিন্তু তিন দিন পর চিকিৎসালয়েই তার মৃত্যু হয়েছে। 

গ্রামবাসীরা অভিযোগ করে জানান, পল্লী চিকিৎসক ফকরুজ্জামানের উপযুক্ত বিচার না হলে তার হাতে এভাবেই মানুষকে মরতে হবে। 



মন্তব্য