kalerkantho


মোবাইল ফোনের জন্য হত্যা : দুইজনের ফাঁসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০১:০৩



মোবাইল ফোনের জন্য হত্যা : দুইজনের ফাঁসি

একটি মোবাইল ফোনের বিরোধকে কেন্দ্র করে আউয়াল নামের একজনকে হত্যার দায় প্রমাণিত হওয়ায় দুইজনকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইবুন্যালের বিচারক সৈয়দা হোসনে আরা। গতকাল বুধবার আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আসামিদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। 

দণ্ডিতরা হলেন- হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নতুন বাজার এলাকা মৃত জিতু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন এবং কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার মখলেস হাজি বাড়ির মো. মোরশেদের ছেলে জাকির হোসেন। রায়ের সময় দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর তাদের কড়া পুলিশ প্রহরায় কারাগারে নেওয়া হয়।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জাহাঙ্গীর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, দুই আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দুজনকেই মৃত্যুদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। আদালতের আদেশে আসামিদের ফাঁসির রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেওয়া হয়। 

তিনি বলেন, ২০০৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার গোচরা জামেয়া নঈমিয়া তৈয়বিয়া ফায়িল মাদরাসার অদূরে পাহাড় থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় রাঙ্গুনিয়া থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা করেন স্থানীয় চৌকিদার দানু মিয়া।

মামলার তদন্ত পর্যায়ে পুলিশ জাকির নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে। খুনের বিষয়ে জাকির জানায়, সে এবং শাহাবুদ্দিন দুজনে শাহাবুদ্দিনকে পাহাড়ে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। একটি মোবাইল ফোনের বিরোধকে কেন্দ্র করে হত্যার দায় স্বীকার করে আসামি জাকির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এতে জাকির জানায়, দা দিয়ে আউয়ালের গলা কেটেছে আসামি শাহাবুদ্দিন। আর হাত চেপে ধরে জাকির।

মামলার তদন্ত শেষে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ ওই বছরের ২১ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরবর্তীতে ২০০৯ সালের ১২ সেপেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত গতকাল বুধবার রায় ঘোষণা করে।


মন্তব্য