kalerkantho


রামু থানার পুলিশ কনস্টেবলের লাখ টাকার চেক নিয়ে লংকাকাণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ২৩:৩০



রামু থানার পুলিশ কনস্টেবলের লাখ টাকার চেক নিয়ে লংকাকাণ্ড

কক্সবাজারের রামু থানার পুলিশ কনস্টেবল মো. আতাউর রহমানের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের এক লাখ টাকার একটি চেক নগদায়ন নিয়ে রিতিমতো লংকাকাণ্ড ঘটে গেছে। বুধবার ডাচ বাংলা ব্যাংক কক্সবাজার শাখায় পুলিশ কনস্টেবল আতাউরের চেক নগদ করার ঘটনা নিয়ে এ কাণ্ড ঘটে। এমনকি এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রামু থানার পুলিশ উল্টো ডাচ বাংলা ব্যাংক রামু শাখার এক নিরাপত্তা কর্মীকে তুলে নিয়ে যায়।

কক্সবাজার ডাচ বাংলা ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, রামু থানার পুলিশ কনস্টেবল মো. আতাউর রহমান তার ব্যাংক হিসাবের এক লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন এবি সিদ্দিক নামের এক ব্যক্তিকে। বেয়ারার চেকটি নগদায়নের জন্য এবি সিদ্দিক কক্সবাজার জেলা শহরের প্রধান সড়কের ডাচ বাংলা ব্যাংকে যান।

চেক প্রদানকারী পুলিশ কনস্টেবলের স্বাক্ষর না মিলায় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবি সিদ্দিককে জানান। এবি সিদ্দিক তৎক্ষণাৎ একটি মোবাইল নম্বর বের করে দিয়ে আলাপের জন্য ব্যাংক কর্মকর্তাকে দেন। ব্যাংক কর্মকর্তা যথারীতি নম্বরটিতে আলাপ করে স্বাক্ষর না মিলার কথা জানান। ততক্ষণে ব্যাংক কর্মকর্তা বুঝতে পারেন যে তিনি কথা বলছেন রামু থানার ওসি'র সঙ্গে।

পরে ব্যাংক কর্মকর্তা ব্যাংক হিসাবধারী পুলিশ কনষ্টেবল আতাউরের সঙ্গে আলাপে নিশ্চিত হয়ে তিনি চেকের নগদ লাখ টাকা এবি সিদ্দিকের হাতে তুলে দেন। এ ব্যাপারে বুধবার রাতে রামু থানার কনস্টেবল আতাউর রহমানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি স্বীকার করেন যে, এবি সিদ্দিক নামের একজনকে তিনি এক লাখ টাকার চেক দিয়েছিলেন এবং টাকাও নগদ উত্তোলন করা হয়েছে। 

ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি। এ ঘটনার জের ধরে বুধবার দুপুরের দিকে রামু থানার একদল পুলিশ ডাচ বাংলা ব্যাংক রামু শাখায় হানা দেয়। সেখানে তখন কর্তব্যরত নিরাপত্তাকর্মী মোহাম্মদ ইউসুফ প্রকাশ মনিরকে পুলিশের দল তুলে নিয়ে যান থানায়। বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ রাজধানী ঢাকায় ব্যাংকের প্রধান অফিসকে অবহিত করেছে। 

বুধবার রাতে এ বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসেনকে জানানো হলে তিনি জানান, 'আমি ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে দেখি।' বুধবার রাত ১০টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখার সময় রামু ডাচ বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ঝন্টু বড়ুয়া জানান, পুলিশ প্রথমে ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী মনিরকে স্থানীয় কোন ইউপি মেম্বারের জিন্মায় দেওয়ার কথা জানান। পরে বলেন যে, রামুর চা বাগান এলাকার বাসিন্দা মনিরের পরিবারের সদস্যদের থানায় আসতে হবে। ব্যাংক নিরাপত্তাকর্মী মনির রাতে এ প্রতিবেদন লেখাকালীন সময়েও থানার ডিউটি অফিসার মাহবুবের পার্শ্বে বসা ছিলেন।



মন্তব্য