kalerkantho


মুরাদনগরে কৃষিজমি রক্ষায় কৃষকদের মানববন্ধন

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি    

২৩ এপ্রিল, ২০১৮ ১৫:১৮



মুরাদনগরে কৃষিজমি রক্ষায় কৃষকদের মানববন্ধন

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ফসলি জমি দখল করে বহুমুখী মৎস্য চাষ প্রকল্প নামের একটি মৎস্য খামার স্থাপন করে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে মাছ চাষ করে আসছে এক প্রভাবশালী চক্র। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করে কোনো রকম সহায়তা না পেয়ে দখলদারদের হাত থেকে কৃষিজমি রক্ষায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ভুক্তভোগী জমির মালিক ও কৃষকরা।
 
আজ সোমবার উপজেলার ভিটি পাঁচপুকুরিয়া গ্রামে প্রকল্পটির সামনে মুরাদনর-ইলেয়টগঞ্জ সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
 
মানববন্ধনে কৃষক ও জমির মালিকদের মধ্যে বক্তব্য দেন খোরশেদ আলম, কারী আব্দুল জলিল, ইউছুফ মিয়া, খোরশেদ আলম, ছুফিয়া বেগম, আব্দুল হক, রফিকুল ইসলাম, আমেনা খাতুন, রিনা বেগম, হাসিয়া বেগম, মরিয়ম বেগম প্রমুখ।
 
বক্তারা বলেন, প্রায় ১৬ বছর আগে জোরপূর্বক ফসলি জমি দখল ও বিভিন্নভাবে কৃষকদের লোভ দেখিয়ে ১০ বছরের জন্য ইজারা নিয়ে ১০ বিঘা জমিতে বহুমখী মৎস্য চাষ প্রকল্প নামের একটি মৎস্য খামার স্থাপন করে একটি প্রভাবশালী চক্র। ওই চক্রের নানা হুমকিতে সাধারণ কৃষকরা ভয়ে নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলার সাহস পাচ্ছিলেন না। ২০১২ সালে ইজারার মেয়াদ শেষ হলেও জোরপূর্বক দখল করে মাছ চাষ চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি। এ ছাড়া প্রকল্পটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ইউপি সদস্য নিখিল বাবু, প্রকল্পের পরিচালক মোস্তাক হত্যাসহ মজলিশ মিয়া নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়।
 
প্রকল্পের অর্থ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাত, কৃষকদের ধান চাষে বাধা, মাছ চাষের কারণে আশপাশের সড়ক, বাড়িঘর বছরের পর বছর ক্ষতিগ্রস্ত  হলেও কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার অভিযোগ করেন তারা। বক্তারা আরো বলেন, গত ১৮ এপ্রিল কৃষি মন্ত্রণালয়, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সংসদ সদস্য, পুলিশ সুপার, জেলা কৃষি কর্মকর্তা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী প্রায় তিন শ কৃষক। প্রয়োজনে তারা  আদালতে যেতেও প্রস্তুত রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।
 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন রাসেল বলেন, 'এ ব্যাপারে আমি অবহিত নই। লিখিতভাবে অভিযোগ পেলে বিধি অনুযায়ী আমাদের যা করণীও সেরকম সকল সহযোগিতা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
 
উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। যারা অভিযোগ করেছে তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে কিন্তু আভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিতু মরিয়ম বলেন, 'অভিযোগটির স্থান সম্পর্কে দুদিন অফিস বন্ধ থাকায় আমি এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি। বিষয়টি সম্পর্কে  নিশ্চিত হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।' 


মন্তব্য