kalerkantho


মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত তেঁতুলিয়া আওয়ামী লীগ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি    

২২ এপ্রিল, ২০১৮ ১৫:৫৫



মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত তেঁতুলিয়া আওয়ামী লীগ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড় ১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দ্বন্দ্বে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের সর্ব উত্তরের জেলা তেঁতুলিয়া আওয়ামী লীগ। নতুন করে দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একটি মামলার ঘটনায় তা আরো মারাত্মক রূপ নিয়েছে।

জানা যায়, পঞ্চগড় ১ আসনে মনোনয়ন পেতে এলাকায় চষে বেড়াচ্ছেন সাবেক সংসদ মজাহারুল হক প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের কর্মকর্তা নাঈমুজ্জামান মুক্তা। দ্বন্দ্বটা মূলত এই দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে। আসন্ন নেতৃত্ব নিয়ে বিভক্ত তেঁতুলিয়ার কাজী পরিবারও।

কাজী পরিবারের দুই ছেলে কাজী হবিবর রহমান ও কাজী মাহবুবুর রহমান। কাজী হবিবর রহমান দীর্ঘদিন ধরে  তেঁতুলিয়া আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে তার ছেলে কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু সাবেক সংসদ সদস্য মজাহারুল হক প্রধানের সমর্থক। এ ছাড়া কাজী মাহবুবুর রহমান তার মেয়ে জামাতা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের কর্মকর্তা নাঈমুজ্জামান মুক্তার সমর্থক। যদিও উভয় পক্ষই বলছে প্রধানমন্ত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন তারা তার জন্যই কাজ করবেন। 

এর মধ্যেই একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব আরো জটিল আকার ধারণ করেছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৬ মার্চ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের কর্মকর্তা নাঈমুজ্জামান মুক্তা মনোনয়ন পূর্ব গণসংযোগের অংশ হিসেবে শালবাহান বাজারের রজনীগন্ধা ক্লাবের নেতাকর্মীদের সঙ্গে চা পান করছিলেন। ক্লাবটির নেতাকর্মীরা বিএনপির সমর্থক হওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অংশ তাতে প্রতিবাদ জানায়। এ সময় নাঈমুজ্জামান মুক্তার সঙ্গে  তাদের হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

এ ঘটনায় গত ১০ মার্চ নাঈমুজ্জামান মুক্তার শ্বশুর কাজী মাহবুবুর রহমান তেঁতুলিয়া থানায় ১৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

আসামিরা হলেন আমিনার রহমান (৪০), রাজিউর রহমান (৩০), মনজু (৫০), সেকেন্দার আলী (৪৫), একরামুল হক (৪০), বাবুল হোসেন (৩৫),  আতাউর রহমান (৩৭), লোকমান আলী (২৫), আজাহার আলী ২৫), বুলু (৩৬), সফিউল ইসলাম (৪২), মকছেদুল ইসলাম (৩৮), মানিক (৩৫), দানিউল হক (৩৩), শামীম (৩৩), রফিকুল ইসলাম (৩৮)। মামলার আসামিদের সবাই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী।

নাঈমুজ্জামান মুক্তার সমর্থক জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান মিলন শেখ জানান, সাবেক সংসদ মজাহারুল হক প্রধান ও কাজী মাহমুদুর রহমানের সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে নাঈমুজ্জামান মুক্তার ওপর হামলা করেছে। এর আগেও তারা বিভিন্ন জায়গায় জনসংযোগ করতে বাধা দিয়েছে। ওই হামলার বিষয়েও গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে।

এ বিষয়ে নাঈমুজ্জামান মুক্তার শ্বশুর সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, 'আমার মেয়ের জামাই মনোনয়ন চাচ্ছে আমিতো অবশ্যই তার পক্ষে কথা বলবো। সে শান্তিপূর্ণভাবে জনসংযোগ করছে সেখানেও তার ওপর হামলা হলো এটাতো আমরা মেনে নিতে পারি না।'

তবে ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের নামে মামলা করে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন আরেক পক্ষ। এমনকি তেঁতুলিয়া আওয়ামী লীগের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য নাঈমুজ্জামান মুক্তাকেই দায়ী করছেন তারা।

তেঁতুলিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু বলেন, 'আমার বাবা তেঁতুলিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ৩৫ বছর সভাপতি ছিলেন। বাবা বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ায় তার হাল আমি ধরেছি। আমাদেরকে নিয়ে বর্তমানে ষড়যন্ত্র চলছে। কে বা কারা মুক্তার ওপর হামলা করেছে তার দায়ভার আমাদের ওপর চাপানো হচ্ছে। আমরা দলের দুঃসময়  মাটি কামড়ে আওয়ামী লীগ করেছি। শেষ পর্যন্ত করবো। তবে উড়ে এসে জুড়ে বসা নেতাদের তৃণমূল আওয়ামী লীগ মেনে নেবে না এটাই স্বাভাবিক।'

তেঁতুলিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইয়াছিল আলী মণ্ডল বলেন, 'আমি আমার দলীয় স্বার্থে উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছি। মীমাংসা না হলে আগামীতে উভয় পক্ষের অবস্থান আরো  সাংঘর্ষিক হবে। যা আমাদের দলের জন্য ভালো সংবাদ বয়ে আনবে না।'

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট বলেন, 'বিষয়টি নাঈমুজ্জামান মুক্তার ব্যক্তিগত সমস্যা। দল এর দায়ভার নেবে না। তারপরও আমি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি সমাধানের জন্য দুই পক্ষকে আলোচনায় বসার আহ্বান করেছিলাম কিন্তু তারা তাতে সাড়া দেয়নি। আমি শুধু এইটুকু বলবো দল থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে আমরা সবাই তার জন্য কাজ করবো। তবে যদি কেউ দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'   

 


মন্তব্য