kalerkantho


দৌলতখানে পুলিশ-জেলে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা, এলাকা জেলেশূন্য

ভোলা প্রতিনিধি   

১৯ এপ্রিল, ২০১৮ ২২:২৯



দৌলতখানে পুলিশ-জেলে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা, এলাকা জেলেশূন্য

ভোলার দৌলতখান উপজেলার মেঘনার অভয়াশ্রমে অভিযানকালে পুলিশের সঙ্গে জেলেদের সংঘর্ষের ঘটনায় একটি পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা করা হয়েছে। এই মামলায় ২৯ জেলেকে চিহ্নিত করা হলেও বাকী দেড় থেকে দুইশ আসামিদের অজ্ঞাতনামা উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়াও উপজেলা মৎস অফিসের পক্ষ থেকে আরো একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। এদিকে মামলার ভয়ে এলাকা জেলে শূন্য হয়ে পড়েছে। 

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার বিকেলে মেঘনার অভয়াশ্রমে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জেলেদের মাছ শিকার করার সংবাদ পেয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগানের নেতৃত্বে পাচজনের একটি টিম অভিযান পরিচালনা করেন। তাদের সঙ্গে চারজন পুলিশ সদস্যও ছিল। এ সময় মাছ ধরা অবস্থায় একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা দেখতে পেয়ে নৌকাটিকে থামানোর চেস্টা করেন মৎস কর্মকর্তারা। জেলেরা নৌকাটি না থামিয়ে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করলে কর্মকর্তারা নৌকাটিকে ধাওয়া করেন। এ সময় ইউছুফ নামে এক জেলে নদীতে লাফিয়ে পড়ে সাঁতার কাটতে থাকে। কিছুক্ষণ সাঁতার কাটার পর সে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ সময় ইউছুফের মারা যাওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়লে জেলেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে অভিযানে ব্যবহৃত নৌকাটি পুড়িয়ে দেয়। মূহুর্তের মধ্যে কয়েক হাজার জেলে এসে কর্তব্যরত মৎস্য কর্মকর্তা ও পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে মৎস অফিসের পাচ কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্য মজিবুর রহমানসহ সকলে আহত হয়।  এ সময় বিক্ষুব্ধ জেলেরা থানার ওসির বাসভবনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এরপর উত্তেজিত জেলেরা উপজেলা কমপ্লেক্সে ঢুকে ইউএনও'র বাসভবনে হামলা করেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, বিক্ষুব্ধ জেলেরা তার বাসায় হামলা চালিয়ে জানালার কাঁচ ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভোলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এনে মোতায়ন করা হয়।

এ বিষয়ে দৌলতখান থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনায়েত হোসেন জানান, পুলিশ বাদী হয়ে বুধবার একটি মামলা হয়েছে। এ ছাড়াও সরকারী মৎস কর্মকর্তাদের  ওপর ও বাসা বাড়িতে হামলা, নৌকা পোড়ানোর ঘটনায় আরো একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।

 


মন্তব্য