kalerkantho


সামটা গ্রামের অনেক ভিটায় এখন বাতি জ্বলে না

ফখরে আলম, যশোর    

২২ মার্চ, ২০১৮ ১৩:২৬



সামটা গ্রামের অনেক ভিটায় এখন বাতি জ্বলে না

ধানের গোলা, গরুর গোয়াল, স্ফটিক জলের পুকুর, ফসলের ক্ষেত, আধা-পাকা বাড়ি সব পড়ে আছে। শূন্য ভিটেয় বাতি জ্বালানোর কেউ নেই। একই পরিবারের তিন প্রজন্মের ১৭ সদস্যসহ ৩০ জন মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক মিশ্রিত নলকূপের পানি পান করে আর্সেনিকোসিসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। পাতালের বিষ ওলটপালট করে দিয়েছে এক বংশের তিন পরিবারকে।

যশোরের শার্শা উপজেলার দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ আর্সেনিক কবলিত সামটা গ্রামে এই সিরিজ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। আর্সেনিকোসিসে এভাবে কয়েকটি পরিবার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার নজির পৃথিবীতে নেই। যশোর শহর থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে সরেজমিন সামটা গ্রাম ঘুরে গ্রামবাসী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৮ সালের দিকে আর্সেনিকোসিসে আক্রান্ত হয়ে গ্রামের বৃদ্ধ নারী জোহরা খাতুন মারা যান। ২০০০ সালের দিকে মারা যান তাঁর বড় ছেলে দাউদ আলী। এরপর শুরু হয় সিরিজ মৃত্যু।

পর্যায়ক্রমে আর্সেনিকোসিসে মারা যান দাউদের স্ত্রী নেহার বানু, ছেলে আইয়ুব, আরেক ছেলে ইউনূচ, মেয়ে রওশন আরা, আরেক মেয়ে রেঞ্জুয়ারা, পুত্রবধূ কূলসুম, দুই ভাই ওহেদ আলী ও দরুদ আলী, ওহেদ আলীর ছেলে আনসার আলী, দরুদ আলীর স্ত্রী জবেদা খাতুন, দুই ছেলে কেতাব আলী ও শামসুর রহমান, মেয়ে ফাতেমা, দরুদ আলীর বাড়িতে বসবাস করা জামাই আব্দুল গফুর। সর্বশেষ ২০১৪ সালে মারা যান দাউদের ছোট মেয়ে রেঞ্জুয়ারা।

সিরিজ মৃত্যুর ঘটনায় রেঞ্জুয়ারার স্বামী রেজাউল শিশুপুত্র রেজওয়ানকে (তিন বছর) সঙ্গে নিয়ে সামটা গ্রামের দাউদের ভিটে ছেড়ে অন্য গ্রামে চলে যান। বর্তমানে ওই ভিটা শূন্য পড়ে রয়েছে। ভিটায় বাতি জ্বালানোরও কেউ নেই।

সামটা গ্রামের আর্সেনিক নিয়ে কাজ করছে এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্ক। এর টেকনিক্যাল সুপারভাইজার রুহুল কুদ্দুস কালের কণ্ঠকে বলেন, 'সামটা গ্রামের ৭৩৮টি নলকূপের পানি পরীক্ষা করে ৬৬৬টি নলকূপে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক পাওয়া গেছে। দাউদ আলীর পরিবারের সব সদস্যসহ গ্রামের ৩০ জন আর্সেনিকোসিসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বর্তমানে গ্রামে আমাদের তালিকাভুক্ত আর্সেনিকোসিসে আক্রান্ত ১৭৫ জন রোগী রয়েছেন।'

স্থানীয় বাগআঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কবির বকুল বলেন, 'দাউদের পরিবারের সব সদস্যের মৃত্যুর ঘটনা খুবই দুঃখজনক। আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি।'

এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. অশোক কুমার সাহা বলেন, 'সামটা গ্রামে আমাদের একটি উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে। সেখানে আর্সেনিকোসিসে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। সম্প্রতি আর্সেনিকোসিসে কোনো মৃত্যুর খবর আমার জানা নেই।' 



মন্তব্য