kalerkantho


ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

সৈয়দপুরে ১২টি পরিবারের ৪৫টি ঘর পুড়ে ছাই

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি    

২১ মার্চ, ২০১৮ ১৪:৪৩



সৈয়দপুরে ১২টি পরিবারের ৪৫টি ঘর পুড়ে ছাই

নীলফামারীর সৈয়দপুরের এক পল্লিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২টি পরিবারের ৪৫টি টিন ও খড়ের ঘরসহ তাদের সর্বস্ব পুড়ে গেছে। এ সময় দুইটি পরিবারের এক লাখ ২৫ হাজার  টাকা পুড়ে যায়। এ ছাড়া অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছে চারটি গাভী, ১৪টি ভেড়া ও ছাগল এবং বিপুল সংখ্যক হাঁস-মুরগি।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতির পরিমাণ ২৫ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আজ বুধবার ভোরে উপজেলার ৪ নম্বর বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলী ঘোনপাড়ায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য  মো. নুরনব্বী সরকার জানান, ঘটনার দিন আজ বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উল্লিখিত এলাকার আনোয়ার হোসেনের গোয়াল ঘর থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তে  আগুনের লেলিহান শিখা আশপাশের বাড়িঘরে ছড়িয়ে পড়ে।

এতে ওই গ্রামের রব্বানী, রফিকুল ইসলাম, মো. মোস্তফা, আনোয়ার, মোতা, শরিফুল,আবু বক্কর সিদ্দিক মঙ্গলু, আবু তালেব, আজিজার রহমান,কাল্লু, মো. আনারুল, মমিনুর রহমানের  টিনের ঘর, আসবাবপত্র, কাপড়সহ সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনে রফিকুল ইসলামের ৬৫ হাজার এবং আনোয়ার হোসেনের ৬০ হাজার টাকা ও চারটি গাভি পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা পরিধেয় বস্ত্র ছাড়া কোনো কিছুই রক্ষা করতে পারেনি।

বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত ১২ পরিবারের শিশুসহ ৫২ জন নারী-পুরুষ খোলা আকাশের নিচের অবস্থান করছেন।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মোস্তফা জানান, ছেলে আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী লিমা তার ছোট শিশুকে সঙ্গে নিয়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হন। এ সময় তাদের গোয়াল ঘরের মধ্যে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখতে পান তিনি। মশা তাড়ানোর জন্য মাটির পাত্রে দেওয়া আগুন থেকে এর সূত্রপাত হয় বলে ধারণা তার।

এদিকে, খবর পেয়ে সকালেই সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোখছেদুল মোমিন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বজলুর রশীদ, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান মো. হেলাল চৌধুরী ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে তাদেরকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সৈয়দপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ১২টি পরিবারদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে তিন হাজার টাকা, এক বান্ডিল ঢেউটিন, দুইটি কম্বল, চাল, ডাল, তেল, দুই বস্তা করে শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।     



মন্তব্য