kalerkantho


রোহিঙ্গা শিবিরে পাকিস্তানিদের টাকা বিতরণ নিয়ে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২০ মার্চ, ২০১৮ ২২:৪৭



রোহিঙ্গা শিবিরে পাকিস্তানিদের টাকা বিতরণ নিয়ে তোলপাড়

রোহিঙ্গা শিবিরে বিদেশিদের নগদ টাকা বিতরণের ঘটনা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। রাতের আঁধারে মসজিদ অথবা কোনো নির্জন এলাকায় নগদ টাকা বিতরণের ঘটনা ঘটছে। গতকাল সোমবার ভোরে এ রকম বড় অংকের টাকার একটি চালান বিতরণের ঘটনা নিয়ে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তোলপাড় চলছে। ওই টাকা বিতরণ করেছে পাকিস্তান থেকে আসা বেশ কয়েকজন মৌলভী। পাকিস্তানিদের সামনে প্রতি জন রোহিঙ্গাকে চার হাজার টাকা করে দিয়ে পরে বিতরণকারী রোহিঙ্গা মাঝিরাই তিন হাজার টাকা করে ফেরৎ নেওয়ার ঘটনা নিয়ে চলছে তোলপাড়।

কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে গোপনে প্রায় তিন হাজার রোহিঙ্গার কাছে নগদ টাকা প্রদান করা হয়। বিতরণ করা টাকার অংক প্রায় ১২ লাখ টাকা। পাকিস্তান থেকে আসা এসব মৌলভীর সাথে কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরের বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতা (মাঝি) জড়িত রয়েছেন। এদিকে নগদ টাকা বিতরণের খবর পেয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ গোয়েন্দা কর্মীদের ধাওয়ার মুখে টাকা বিতরণে জড়িত রোহিঙ্গা নেতারা গা ঢাকা দিয়েছেন। 

এ ব্যাপারে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আবুল খায়ের জানান, ‘ভাই কোনদিকে সামাল দেওয়া যায় বলেন। খবর পেয়ে একদিকে গেলে তখন অন্যদিকে পালান দেশি-বিদেশিরা। বিশাল রোহিঙ্গা শিবিরে এভাবে ছুটাছুটিতে আমাদের অবস্থাও কাহিল।’

জানা গেছে, গতকাল সোমবার ফজরের আযানের পরপরই রোহিঙ্গাদের মাঝে টোকেন দিয়ে প্রতিজনকে নগদ চার হাজার করে টাকার প্যাকেট দেওয়া হয়। কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের ডি-৪ নম্বর ব্লকের একটি মসজিদে এই টাকা বিতরণ করা হয়। এ সময় রোহিঙ্গা মাঝিরা (রোহিঙ্গা নেতা) জনপ্রতি চার হাজার টাকার প্যাকেট দিয়ে পরে বিদেশিদের কাছ থেকে সরে গিয়ে তিন হাজার টাকা করে ফেরৎ নেয়। 
এ প্রসঙ্গে কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের ডি-১ নম্বর ব্লকের ২৫০ নম্বর ঘরের বাসিন্দা আম্বিয়া জানান, একই ব্লকের রোহিঙ্গা মাঝি আবুল বাশার ও জিয়াউর রহমান জিয়া তাদের কাছে টোকেন বিলি করেন।

কুতুপালং শিবিরের একই ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ ওসমান (৩০) জানান, রোহিঙ্গা মাঝি আবুল বাশার ও মাঝি জিয়া ছাড়াও কুতুপালং শিবিরের মোহাম্মদ আলম ও সোনা মিয়া মাঝি পাকিস্তানি মৌলভীদের এ টাকা বিতরণের ঘটনায় জড়িত। এছাড়াও কুতুপালং নিবন্ধিত শিবিরের রোহিঙ্গা মৌলভী হামিদ ও মৌলভী জানে আলম পাকিস্তানিদের সাথে আগে থেকেই যোগাযোগে ছিল। সেই সাথে কুতুপালং ডি-৪ নম্বর ব্লকের মসজিদের মোহতামিম রোহিঙ্গা মৌলভী মঞ্জুর পাকিস্তানিদের সাথে করে মসজিদে নিয়ে যান। 

এ ঘটনায় জড়িত রোহিঙ্গা মাঝিদের মোবাইল নম্বরে বার বার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

এদিকে শিবিরে পাকিস্তানি নাগরিকদের টাকা বিতরণের খবর শুনে গত দুই দিন ধরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও গোয়েন্দা কর্মীরা এ ঘটনায় জড়িত রোহিঙ্গা মাঝিদের ধরতে কাজ করছেন। 

আজ মঙ্গলবার রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত এক গোয়েন্দা কর্মী এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, টাকা বিতরণের ঘটনায় তুর্কি নাগরিকের কথাও শুনা গেছে। 

রোহিঙ্গাদের মাঝে টাকা বিতরণে জড়িত রোহিঙ্গাসহ বিদেশিদের সনাক্ত করারও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। 


মন্তব্য